ঘরে ঢুকে একজনকে গুলি করে হত্যা, ১০ জন আহত

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চলে বিরোধের জেরে দলবল নিয়ে বাড়িতে ঢুকে মোমেন মিয়া (৫৫) নামে এক কৃষককে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় আরও কয়েকটি বাড়িতে হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হন। রবিবার (২ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে চাঁনপুর ইউনিয়নের সওদাগরকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মোমেন মিয়া সওদাগরকান্দি গ্রামের মৃত ধন মিয়ার ছেলে। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ওই গ্রামের মোবারক (৬৫), নাজমুল হোসেন (৩০) ও রুহুল আমিন (৩৭) রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। বাকিরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান হতাহতের তথ্য বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন। 

মোমেন মিয়ার স্বজন ও স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, স্থানীয় একটি বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হওয়া নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এ ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয়টির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হতে চান বাংলাদেশ স্কাউটের কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিন। অন্যদিকে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোমেন সরকারের অনুসারীরা বাধা দিয়ে আসছিলেন। সম্প্রতি বসে দুপক্ষের বিরোধ মীমাংসা করে দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য (নরসিংদী-৫) আশরাফ উদ্দিন বকুল। কিন্তু সেই মীমাংসা মেনে নেননি ফরিদ উদ্দিনের লোকজন।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, রবিবার সকাল ৯টার দিকে পাশের উত্তরপাড়া ও পূর্বপাড়ার লোকজনসহ ফরিদ উদ্দিন দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বাড়িতে ঢুকে হামলা করেন। এ সময় আরও কয়েকটি বাড়িতে হামলা করে অন্তত ১০ জনকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে মোমেন মিয়ার বাড়িতে ঢুকে তাকে ঘরে একা পেয়ে গুলি করা হয়। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ফরিদ উদ্দিনসহ হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। পরে আহত অবস্থায় তাকে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জান্নাতুল নাইম বলেন, ‌‌‘মোমেন মিয়াকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার মাথায় ও পায়ে গুলির আঘাতের চিহ্ন ছিল।’

এ বিষয়ে চাঁনপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোমেন সরকার বলেন, ‘মোমেন মিয়া আমার চাচাতো ভাই। তাকে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করা হয়েছে। ফরিদ উদ্দিনকে ছয় মাসের জন্য অ্যাডহক কমিটির সভাপতি করা হয়েছিল। তিনি নানা ধরনের আর্থিক দুর্নীতি ও অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছিলেন। পরে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এখন তিনি মারামারি ও খুনোখুনি করে সভাপতি হতে চান।’

তিনি বলেন, ‘এলাকায় ঝগড়া হতে পারে এমনটি এমপি সাহেবকে কেন জানালাম সেজন্য ক্ষিপ্ত হয়ে তারা গুলি করে মোমেনকে হত্যা করেছে। তারা অস্ত্র সজ্জিত হয়ে আমাদের লোকজনকে ডাকাডাকি করেছে সংঘর্ষ করার জন্য, কিন্তু আমাদের পক্ষের লোকজন সংঘর্ষ জড়িত না হয়ে বাড়ি ছেড়ে দূরে ছিলেন, তারপরও তারা এমন হতাহতের ঘটনা ঘটিয়েছে।’

অভিযুক্ত ফরিদ উদ্দিন বাংলাদেশ স্কাউটের (নোয়াখালী ও ফেনী অঞ্চলের) একজন সহকারী পরিচালক। তিনি বলেন, ‘আমি বর্তমানে কর্মস্থল নোয়াখালীতে আছি। তাহলে আমি গ্রামের হত্যাকাণ্ডে কীভাবে জড়িত থাকবো? অভিযোগ তো যে কেউই করতে পারেন। যাচাই-বাছাই ও তদন্ত না করে তো এমন মিথ্যা অভিযোগ তোলা উচিত নয়।’

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মজিবুর রহমান বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়া মোমেন মিয়ার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িতরা পলাতক। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। দুপক্ষের বিরোধ নিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’