দুধ দিয়ে গোসল করে যুবদলের রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ালেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলম (৪০)। দুধ দিয়ে গোসল করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুর ১২টায় ধনুয়া দক্ষিণপাড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে দুধ দিয়ে গোসল করে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দেন।
মাহাবুব আলম গাজীপুর ইউনিয়নের ধনুয়া দক্ষিণপাড়া গ্রামের আজিম উদ্দিনের ছেলে। তিনি ২০০৬ সাল থেকে যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ওই বছরই বাড়িতে খিচুড়ি পার্টির আয়োজন করে দলের নেতাকর্মীদের দাওয়াত দিয়ে বিএিনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন।
রাজনীতি ছাড়ার কারণ হিসেবে মাহাবুব আলম বলেন, ‘আমার পরিবারের সবার সমর্থনে আর কোনও রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকবো না। ২০০৬ সালে আমি বিএনপিতে আসি। ২০১৩ সালে ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হই। আমি রাজনীতি করে দুর্দিনে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তায় কিতাব আলী প্লাজায় আমার একটি জুতার দোকান ছিল। সেই দোকান ধরে রাখতে পারিনি রাজনীতি করার কারণে। আজকের পর থেকে আর কোনও দলের রাজনীতি করবো না।’
তিনি বলেন, ‘বিগত দিনের রাজনৈতিক পাওয়ার বা চলাফেরার মাধ্যমে কারও মনে কোনও প্রকার কষ্ট দিয়ে থাকলে সবাই আমাকে ক্ষমা করে দিয়েন। আমি এখন থেকে সাধারণ মানুষের মতো আপনাদের সঙ্গে চলাফেরা করবো। মা-বাবা এবং পরিবার নিয়ে সবার সঙ্গে যেন মিলেমিশে সুখে শান্তিতে থাকতে পারি, সেজন্য রাজনীতিতে আর সক্রিয় থাকবো না। একটি মামলায় আমি ৫২ দিন জেল খেটেছি। আমার মা-বাবা এবং পরিবারের লোকজন অনেক কষ্ট করে টাকা-পয়সা দিয়ে আমাকে জেল থেকে জামিনে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন। জেল থেকে বের হওয়ার পর মামলার ঘটনা নিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করেছিলাম। যেন ঘটনাটি উঠে আসে। সেই কারণে শ্রীপুর উপজেলা বিএনপি আমাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব খাইরুল কবির মন্ডল আজাদ ভাইয়ের কাছে সেই কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব দিই। কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব দেওয়ার এক মাস পর আবার আমাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। আমার কোনও কার্যক্রমে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে; এ কারণে হয়তো আমাকে বহিষ্কার করেছে, এতে হয়তো দলের ভালো হয়েছে। তাতে আমার কোনও দুঃখ নাই। আমি বিগত দিনে যতদিন যুবদলের রাজনীতি করেছি, ততদিন আমার জানামতে কারও ক্ষতি করি নাই। দলের নাম বিক্রি করে কারও কাছ থেকে কোনও ধরনের টাকা-পয়সা বা আর্থিক সুবিধা নিই নাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার নামে অনেক অপবাদ দেওয়া হয়েছে। এখন আমি যদি দলে না থাকি এবং দলের কোনও কার্যক্রমে অংশগ্রহণ না করি তাহলে আমার নামে আর বদনাম হবে না। সেই কারণেই আমি আর দলের কার্যক্রমে যুক্ত থাকবো না এবং কোনও রাজনীতি করবো না।’
এ বিষয়ে গাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক এনামুল হক বলেন, ‘বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগে মাহাবুব আলমকে একাধিকবার দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। দুধ দিয়ে গোসল করে রাজনীতি ছাড়ার বিষয়টি ফেসবুকে দেখেছি। তবে এভাবে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দেওয়া ঠিক হয়নি।’