সন্ত্রাস রুখে দিতে প্রয়োজনে ২-১টা রগ কেটে ইতিহাস তৈরি করুন: গকসু এজিএস

গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সামিউল হাসান শোভনের একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (০৫ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নিজের ফেসবুকে এই পোস্ট দেন তিনি।

এতে তিনি লিখেছেন, ‘সংসদে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের আর ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের সঙ্গে শিবিরের এই কুসুম কুসুম প্রেম জাস্ট একটা ফাজলামি। হে শিবির, ওরা আপনাদের চোখ তুলতে পারে, গোড়ালি কাটতে পারে, মাথা ফাটাতে পারে। আর আপনারা সারা জীবন খালি মার খেয়ে প্রতিবাদ মিছিলই করে গেলেন। ৯০-এর দশকে শিবিরের ওপর পায়ের রগ কাটার মিথ্যা অপবাদ আছে, সন্ত্রাস রুখে দিতে প্রয়োজনে ২/১টা রগ কেটে ইতিহাস তৈরি করুন। আপনারা এতো আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে কী করবেন, তারা তো ঠিকই আইন কে মিডিল ফিঙ্গার দেখাচ্ছে প্রতিনিয়ত। তোমাকে আবার জেগে উঠতে হবে, হে শিবির ক্যাডার নাসির, দেখো পুনরায় নব্য সন্ত্রাসের উত্থান হয়েছে।’

সামিউল হাসান শোভন গকসু নির্বাচনে শিবিরের সমর্থিত প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ফেসবুক পোস্টের বিষয়ে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পোস্টটি আমি নিজেই দিয়েছি। তবে এটি আমার ব্যক্তিগত মতামত, এর সঙ্গে গণ বিশ্ববিদ্যালয় বা গকসুর কোনও সম্পর্ক নেই।’

শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া

পোস্টটি দেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর সমালোচনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী। আইন বিভাগের শিক্ষার্থী প্রিন্স সম্রাট মুস্তাকিম ফেসবুকে লিখেছেন, ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে একজন ছাত্র সংসদের এজিএসের এমন বক্তব্য দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একজন ছাত্রপ্রতিনিধি হিসেবে এ ধরনের হুমকিমূলক বক্তব্য সাধারণ শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবে নেবেন না।’

এদিকে গকসুর ক্যান্টিন সম্পাদক মনোয়ার হোসেন অন্তর ফেসবুকে ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে ‘ছাত্রদলের রগ কাটার জন্য প্রয়োজনীয় প্রসিডিউর’ শিরোনামে একটি পোস্ট দেন। সেখানে অস্ত্রোপচারের বিভিন্ন ধাপ উল্লেখ করে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করা হয় এবং অ্যানেস্থেশিয়া ব্যবহারের কথাও লেখা হয়।

যা বলছেন এজিএস

সমালোচনার বিষয়ে সামিউল ইসলাম শোভন বলেন, ‘আমার পোস্টে কোথাও গণ বিশ্ববিদ্যালয় বা বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট কোনও ঘটনার কথা উল্লেখ নেই। এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি প্রসঙ্গে লেখা ব্যক্তিগত পোস্ট। বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি, যার সঙ্গে পোস্টটির সম্পর্ক আছে। জাতীয় সংসদ ও বিভিন্ন ক্যাম্পাসের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গেই এটি লেখা হয়েছে। কোনও নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানের কথা বলা হয়নি। তাই এটিকে গণ বিশ্ববিদ্যালয় বা ছাত্র সংসদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে দেখার সুযোগ নেই।’

গকসুর ভিপির বক্তব্য

গকসুর ভিপি ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান বলেন, ‘ছাত্র সংসদের কোনও ব্যক্তির ব্যক্তিগত বক্তব্যের দায়ভার ছাত্র সংসদ নেবে না।’

তিনি বলেন, ‘দায়িত্বশীল অবস্থানে থাকলে তার প্রতিফলন কথাবার্তাতেও থাকা উচিত। ব্যক্তিগতভাবে আমারও অনেক বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানানোর ইচ্ছা হয়। কিন্তু দায়িত্বশীল অবস্থানে থাকায় সবকিছু প্রকাশ করা সম্ভব হয় না। ব্যক্তিগত অনুভূতির চেয়ে দায়িত্ববোধকে প্রাধান্য দেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে কিছু মন্তব্য ও পোস্ট অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ব্যক্তিগত মত প্রকাশে সংযত ও সচেতন থাকার আহ্বান জানাই।’

গণ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. নির্জন বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা প্রতিহত করতে ছাত্রদল প্রস্তুত আছে। শিবির সহিংসতার হুমকি দিয়ে সন্ত্রাসী রাজনীতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। এ ধরনের রাজনীতির বিরুদ্ধে ছাত্রদলের অবস্থান অব্যাহত থাকবে।’

এজিএসের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা

সাত বছর পর অনুষ্ঠিত গকসু নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতারা জিএস, এজিএসসহ চার জনকে নিজেদের প্যানেলের উল্লেখ করে অভিনন্দন জানান। পরে স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতারাও তাদের শুভেচ্ছা জানান।

এ ছাড়া গত কয়েক মাসে শিবিরের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সামিউল ইসলাম সোভোনকে দেখা গেছে বলে বিভিন্ন ছবি ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ফটোকার্ড যুক্ত করে প্রোফাইল ছবি দেন গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সামিউল ইসলাম শোভন। যদিও বরাবরই নিজের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন তিনি।