গণঅভ্যুত্থান দিবসের বক্তব্য নিয়ে ছাত্রদল ও শিবিরের সংঘর্ষে আহত ৭

নারায়ণগঞ্জ শহরে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়াসহ দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উভয় পক্ষ ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয়পক্ষের কমপক্ষে সাত জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে শহরের চাষাঢ়া ও কলেজরোড এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- তোলারাম কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি এমদাদুল হক শুভ, সাধারণ সম্পাদক তামিম, অর্থ সম্পাদক জুবায়েদ, শিবির কর্মী মনির, ইসমাইল, ছাত্রদল নেতা তুহিন আহমেদসহ আরও একজন জন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি তোলারাম কলেজে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। লাঠিসোঁটা নিয়ে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ও মারধর করেন।

প্রথমে শহরের চাষাঢ়া এলাকায় এই সংঘর্ষ শুরু হয়, যা পরে কলেজরোড এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের কয়েকজন আহত হন। তাদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে সরকারি তোলারাম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মনির হোসেন জিয়া অভিযোগ করেন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা উসকানিমূলক বক্তব্য দিলে আমরা প্রতিবাদ জানাই। এর পরপরই ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা বহিরাগতদের নিয়ে  ধারালো অস্ত্র সহ লাঠিসোঁটা ব্যবহার করে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।  এতে আমাদের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ খবর পেয়ে আমাদের লোকজন তাদের প্রতিহত করতে এগিয়ে গেছে।

পাল্টা অভিযোগ করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন রাজু বলেন, ছাত্রদল হামলার প্রস্তুতি নিয়েছে- এমন সংবাদ পেয়ে আমরা কলেজ থেকে বের হয়ে আসি। তবে চাষাঢ়া এলাকায় পৌঁছানোর পর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর হামলা চালায়। পরে সেখান থেকে পিছু হটে ফের কলেজরোড এলাকায় অবস্থান নিলে সেখানেও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এতে ছাত্রশিবিরের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। তাদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. হাসানুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় ছাত্রশিবিরের সভাপতির কোন এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের লোকজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আহত ও আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ঘটনায় যতদূর শুনেছি ৩-৪ জন আহতে হয়েছে। তবে কাউকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে কি না এমন তথ্য আমাদের কাছে নেই। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।