বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) শিক্ষার্থীদের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে একাডেমিক বহিষ্কারসহ যেকোনও ধরনের কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে শাখা ছাত্রদল।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বাকৃবি শাখার আহ্বায়ক আতিকুর রহমান, সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এ এম শোয়াইব স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ অনুরোধ জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাকৃবিতে সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে শাখা ছাত্রদল। ঘটনা পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে একাডেমিক বহিষ্কারসহ বিভিন্ন মেয়াদি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের যে ইঙ্গিত দিচ্ছে, তাতে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ বলেন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন, ভবিষ্যৎ ও মানসিক বিকাশের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া সমীচীন হবে না, যা একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনকে স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই প্রশাসনকে অ্যাকাডেমিক বহিষ্কারসহ কঠোর ব্যবস্থা থেকে বিরত থেকে সংযম, মানবিকতা, ন্যায়পরায়ণতা ও বাস্তবতার নিরিখে বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নিতে অনুরোধ জানানো হয়।
একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য, সংযম ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখার আহ্বান জানান সংগঠনটির নেতারা। তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগে চলমান পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য সমাধান বের হবে। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য স্বার্থ রক্ষা ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে শাখা ছাত্রদল ভবিষ্যতেও দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করে যাবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই প্রথম বর্ষের দুই শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে আশরাফুল হক হল ও শহীদ শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন আহত হন। এরপর ২ আগস্ট রাতে অনলাইনে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের বাগবিতণ্ডাকে কেন্দ্র করে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল ও মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে চার জন আহত হন। সর্বশেষ ৩ আগস্ট দিবাগত রাতে পৃথক দুই ঘটনায় এই চারটি হলের শিক্ষার্থীরা আবারও সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ভাঙচুরে জড়িয়ে পড়েন, যা ক্যাম্পাসে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রতিবেদন ও সুপারিশের জন্য গত ৩ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পৃথক ৭ ও ৪ সদস্যের দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

প্রেমের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষে আহত ১৩







