সাবেক সেনাসদস্যকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা

গাজীপুরে সাবেক নারী সেনাসদস্যকে (২৮) ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা শাহ আলম খলিফার (৫০) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী জয়দেবপুর থানায় মামলা করেছেন।

আসামি শাহ আলম খলিফা (৫০) গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী (মধ্যপাড়া) গ্রামের মৃত রহমত খলিফার ছেলে। তিনি পিরুজালী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য এবং ওই ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক।

ভিকটিমের স্বামী মামলার বাদী নজরুল ইসলাম (৩৪) মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, স্ত্রীকে চলাচলের পথে প্রেম নিবেদন এবং কুপ্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করে আসছেন শাহ আলম খলিফা। বিষয়টি স্ত্রী আমাকে জানালে তাকে সাবধানে চলাফেরা করার পরামর্শ দেই এবং আসামিকে এসব কাজ না করার অনুরোধ করি। ৩১ জুলাই বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে আমার স্ত্রী বসত বাড়ি নির্মাণ করার উদ্দেশে পিরুজালী মধ্যপাড়া গ্রামের জমিতে যায়। পূর্বের ঘটনার জেরে শাহ আলম খলিফা ও তার ৫-৬ জন সহযোগী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমার স্ত্রীকে জমি মাপার কাজে বাধা দেয়। এ সময় প্রতিবাদ করলে শাহ্ আলম খলিফা আমার স্ত্রীকে পূর্বের ন্যায় আবারও কুপ্রস্তাব দেয় এবং তার সঙ্গে রাত কাটাতে বলে। তার অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে মারধর করে। একপর্যায়ে শাহ্ আলম খলিফা আমার স্ত্রীর হাত থেকে তার মোবাইল ফোন টান দিয়ে নিয়ে যায়।

মোবাইল ফোন উদ্ধারের চেষ্টা করলে স্ত্রীকে জোরপূর্বক ঝাপটে ধরে তার বসতঘরের ভেতরে নিয়ে যৌন হয়রানি করে। এ সময় তার পরনের কাপড় টেনেহিঁচড়ে খুলে ধর্ষণের চেষ্টা করে। রক্ষার চেষ্টা করলে শাহ আলম খলিফা তার দুই হাতে গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হুমকি দিয়ে চলে যায়।

অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য শাহ আলম খলিফার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জয়দেবপুর থানার ওসি আল মামুন বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতারেও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।