কেন ট্রেনের নিচে জীবন দিলেন পোশাকশ্রমিক দম্পতি?

গাজীপুরের শ্রীপুরে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে পোশাকশ্রমিক দম্পতির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের ইজ্জতপুর রেলওয়ে স্টেশনের উত্তর পাশের আউটার সিগন্যালে এ ঘটনা ঘটে। 

নিহতরা হলেন- আল-আমিন (২৮) ও তার স্ত্রী রিনা আক্তার (২৫)। তারা শ্রীপুর পৌরসভার বৈরাগীরচালা এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে আলাদা পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। তাৎক্ষণিকভাবে আল-আমিনের বিস্তারিত পরিচয় জানাতে পারেনি পুলিশ। তবে তিনি বৈরাগীরচালা এলাকার হ্যামস গার্মেন্টসে অপারেটর হিসেবে চাকরি করতেন।

রিনা আক্তার উপজেলার বরমী ইউনিয়নের পাইটালবাড়ী গ্রামের সিদ্দিক মিয়ার মেয়ে। তিনি ওই ইউনিয়নের গাড়ারন গ্রামের আরবেল ফ্যাশন পোশাক কারখানায় অপারেটর হিসেবে চাকরি করতেন।

নিহত রিনা আক্তারের বোন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আল-আমিন রিনা আক্তারের দ্বিতীয় স্বামী। প্রথম স্বামীর ঘর থেকে এক মেয়েকে নিয়ে আল-আমিনের সঙ্গে প্রেম করে বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকে তারা বৈরাগীরচালা এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে আলাদা পোশাক কারখানায় চাকরি করতো। আল-আমিন অনলাইনে জুয়া খেলায় আসক্ত ছিল। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া লেগে থাকতো। রিনা প্রায়ই সময় স্বামীকে রেখে তার মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়ি বরমীতে চলে যেতো। তবে আজকে তাদের মধ্যে কী হয়েছে এবং তারা কেন আত্মহত্যা করেছে এ বিষয়ে কিছু জানতে পারিনি।

ঘটনাস্থলে থাকা ওই এলাকার বাসিন্দা লিপি আক্তার ও রত্না আক্তার বলেন, বিকাল ৩টার দিকে তারা দুজন রেলপথ দিয়ে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। মাঝে মাঝে রেললাইনে বসে গল্প করতেও দেখা গেছে। বিকাল ৫টার দিকে দুজন ব্যক্তি আমাদের ডেকে বলে, তারা ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছে। আমরা মৃত্যুর খবর শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি দুজনের লাশ পড়ে আছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম সিরাজী বলেন, ময়মনসিংহগামী জামালপুর কমিউটার ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিলে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে তাদের মৃত্যু হয়। 

জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) ফারুক হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধারের পর মর্গে পাঠানো হয়েছে। স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে।