গাজীপুরে তুরাগ নদীতে নৌকায় বসে জুয়া খেলার সময় পুলিশ আতঙ্কে পানিতে ঝাঁপ দেওয়ার পর নিখোঁজ যুবক মোয়াজ্জেম হোসেনের (৪৩) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত মোয়াজ্জেম হোসেন গাজীপুর মহানগরীর খালিশাবর্তা এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে মহানগরীর কড্ডা এলাকায় তুরাগ নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে একটি চক্র তুরাগ নদীর কাউলতিয়া, কারখানা বাজার, কড্ডাসহ আশপাশের এলাকায় নৌকায় বসে জুয়া ও মাদকের আড্ডা চালিয়ে আসছে। পুলিশ বিভিন্ন সময় অভিযান চালালেও নদীতে অবস্থান করায় তাদের আটক করতে পারেনি।
বুধবার রাতে মোয়াজ্জেম হোসেনসহ ৪-৫ জন একটি ট্রলারে বসে তুরাগ নদীতে জুয়া খেলছিলেন। এ সময় অপর একটি ট্রলার তাদের কাছে এলে পুলিশ ভেবে তারা নদীতে ঝাঁপ দেন। পরে তিন জন তীরে উঠতে পারলেও মোয়াজ্জেম নিখোঁজ হন। খবর পেয়ে স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হলে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল থেকে গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নদীতে উদ্ধার অভিযান চালায়। দিনভর অভিযান চালিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার ভোরে কড্ডা এলাকায় নদী মোয়াজ্জেমের লাশ ভেসে উঠলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
তবে নিহতের চাচাতো ভাই দেলোয়ার হোসেন বলেন, মোয়াজ্জেমসহ ৪-৫ জন ট্রলারে বসে ছিলেন। এ সময় ৫-৬ জন লোক এসে তাদের ট্রলার থেকে নেমে আসতে বলেন। নেমে না এলে গুলি করার হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে ভয়ে তারা নদীতে ঝাঁপ দেন। তিন জন তীরে উঠতে পারলেও মোয়াজ্জেম নিখোঁজ হন।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপির) সদর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, ওই দিন ঘটনাস্থলে পুলিশের কোনও অভিযান চালানো হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, তারা জুয়া খেলছিলেন এবং পুলিশের ভয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন। ওই সময় তিন জন তীরে উঠতে পারলেও মোয়াজ্জেম উঠতে পারেননি। অথচ পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জানা গেছে, তিনি ভালো সাঁতার জানতেন। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।