ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এক নারীকে স্ত্রী দাবি করে দুই ভাইয়ের মারামারি করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে ভাঙ্গা থানা চত্বরে ও থানার সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুই পক্ষকে শান্ত করে থানা চত্বর থেকে বের করে দেয় পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের এক যুবকের সঙ্গে ওই নারীর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর বড় ওই যুবকের অনুপস্থিতিতে তার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে ভাবির প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত মঙ্গলবার দেবরের সঙ্গে ঢাকার সাভারে গিয়ে বিয়ে করে সংসার শুরু করেন তারা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ওই নারী দেবরের সঙ্গে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। পরে খোঁজ পাওয়া যায় সাভারে আছেন। সেখান থেকে তাকে ভাঙ্গায় নিয়ে আসা হয়। তখন থানার সামনে দুই ভাই মারামারিতে জড়ান।
মারামারির ঘটনায় ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ২ মিনিট ১১ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারীকে কেন্দ্র করে মারামারি ও হাতাহাতিতে জড়িয়েছেন দুই ভাই। এ সময় অন্যরা তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করছেন। একপর্যায়ে ওই নারীর জামাকাপড় ধরে কয়েকজন নারীকে টানাটানি করতে দেখা যায়। ওই নারী প্রথমে স্বামী হিসেবে একজনকে (বড় ভাই) অস্বীকার করলেও পরে স্বীকার করেন। তাকে ছেড়ে ছোট ভাইকে বিয়ে করেছেন বলেও জানান। এ সময় ঘটনাস্থলে শত শত মানুষের ভিড় জমে যায়।
আলগী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) বাকলেস হরকরা বলেন, ‘দুই বছর আগে ওই নারীর বিয়ে হয়। একপর্যায়ে দেবরের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ নিয়ে বাড়িতে মাঝেমধ্যে ঝগড়া হতো। গত মঙ্গলবার মেয়েটি এককাপড়ে দেবরের সঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরে জানা যায়, তারা সাভারে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে তাদের ভাঙ্গায় নিয়ে আসেন স্বজনরা। সেখানে গিয়ে মারামারিতে জড়ান দুই ভাই।’
ওই নারীর বাবা বলেন, ‘বিষয়টি আইনি ও সামাজিকভাবে সমাধানের উদ্দেশ্যে উভয় পক্ষকে নিয়ে থানায় এসেছিলাম। কিন্তু থানা প্রাঙ্গণে উভয় পক্ষের আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে তারা দুই ভাইও হাতাহাতিতে জড়ান।’
এ বিষয়ে ওই নারী বলেন, ‘আমার প্রথম স্বামী ও পরিবারের লোকজন আমাকে অনেক নির্যাতন করতো। সে সময় আমার দেবর আমাকে সহায়তা করতো। পরে আমি আমার স্বামীকে ছেড়ে দেবরকে বিয়ে করেছি। আমরা বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে অন্যত্র ঘর সংসার শুরু করেছি। বিষয়টি সমাধানের কথা বলে আজ আমাদের থানায় নিয়ে আসা হয়। কিন্তু সেখানেও ঝামেলা হয়েছে।’
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘এক নারীকে নিয়ে থানার ফটকের সামনে ঝগড়াবিবাদ হয়। পরে তারা থানা চত্বরে ঢুকেও ঝগড়া করছিলেন। তখন পুলিশ হস্তক্ষেপ করে তাদের নিবৃত্ত করে। এ নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনও অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তারা বাড়িতে গিয়ে সমস্যার সমাধান করবেন বলে জানিয়েছেন। ওই নারী এবং তার দেবরকে তাদের দুই পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।’