২৫ থেকে ৩২ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি করছেন কৃষকরা, বাজারে কত

ফরিদপুরে চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো ফলনে উৎপাদনও হয়েছে প্রচুর। তবে উৎপাদন বেশি হলেও দাম নিয়ে সন্তুষ্ট নন কৃষকরা। প্রকারভেদে প্রতি মণ বিক্রি করে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় পাচ্ছেন তারা। হিসাবে কেজি পড়ছে ২৫ থেকে ৩২ টাকা। তবে এসব পেঁয়াজ বাজারে খুচরায় ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কৃষি বিভাগ বলছে, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুত থাকায় আপাতত আমদানির প্রয়োজন নেই। কৃষকরা আগে একটু কম দাম পেলেও এখন ঠিকমতো দাম পাচ্ছেন।

ফরিদপুর দেশের অন্যতম দ্বিতীয় বৃহৎ পেঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলা। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪০ হাজার ৩১৩ হেক্টর জমিতে। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে এবার আবাদ হয়েছে ৪৭ হাজার ৩৬ হেক্টর জমিতে। এসব জমি থেকে প্রায় ৭ লাখ ৫১ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন হয়েছে।

হিসাবে কেজি পড়ছে ২৫ থেকে ৩২ টাকা

কৃষকরা সাধারণত উচ্চফলনশীল বিভিন্ন জাতের পেঁয়াজ চাষ করে থাকেন। এর মধ্যে কিং জাত আবাদ বেশি। আকারে তুলনামূলক বড় হওয়ায় এ জাতের পেঁয়াজে ফলনও বেশি পাওয়া যায়। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন বাজারে চাষি পর্যায়ে প্রকারভেদে প্রতি মণ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

কৃষকরা বলছেন, উৎপাদন খরচ, শ্রমিকের মজুরি ও সংরক্ষণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান বাজার দরে কাঙ্ক্ষিত লাভ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে খুচরা বাজারে ঠিকই ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ফরিদপুরের ঠেনঠেনিয়া বাজারের পেঁয়াজ চাষি বজলুর রহমান, আবু তালেম মোল্লা, হাসমত শেখ, সাইফুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা হয়। তারা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, এবার পেঁয়াজের ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে এখন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করছি। দামটা যদি আরও একটু বেশি পাওয়া যায়, তাহলে আমরা লাভবান হতাম। তাদের দাবি উৎপাদন ভালো হয়েছে তবে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করার মতো আধুনিক প্রযুক্তি না থাকায় অনেকগুলো নষ্ট হয়েছে। এই পেঁয়াজ নষ্ট না হলে আমরা যেমন লাভবান হতাম তেমনি আরও সরবরাহ করা যেতে বাজারে। এতে বাজারের ভারসাম্য ঠিক থাকতো। 

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ফরিদপুরের কৃষকদের ঘরে এখনও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পেঁয়াজ মজুত রয়েছে

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ফরিদপুরের কৃষকদের ঘরে এখনও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পেঁয়াজ মজুত রয়েছে। ফলে স্থানীয় উৎপাদিত পেঁয়াজ দিয়েই বাজারের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে। এ কারণে আপাতত বিদেশ থেকে আমদানির প্রয়োজন নেই।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ফরিদপুরের উপপরিচালক মো. শাহাদুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‌‘স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পেঁয়াজ দিয়েই বাজারের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। তবে দর আরও একটু বাড়লে চাষিরা লাভবান হতেন।’ চলতি মৌসুমে চাষিরা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জেলায় প্রায় ৭ লাখ ৫১ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন হয়েছে। স্থানীয় বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে কৃষক ও ভোক্তা উভয় পক্ষই উপকৃত হবে।’