বাসায় আশ্রয় দিয়ে তরুণীকে ধর্ষণ, বাসচালক গ্রেফতার

ঢাকার সাভারে এক তরুণীকে ধর্ষণের মামলায় নয়ন মন্ডল (৪৮) নামের এক বাসচালককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে রাজধানীর গাবতলী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

বুধবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম। ওসি বলেন, ২৫ বছর বয়সী এক চাকরিপ্রার্থী তরুণী নয়ন মন্ডলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এবং শীলা বেগম নামের এক নারীর বিরুদ্ধে ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগ এনে মঙ্গলবার সকালে সাভার মডেল থানায় মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর গাবতলী বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে নয়নকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, নয়ন পেশায় বাসচালক। সে সাভারের মধুমতি মডেল টাউন এলাকায় ভাড়া থাকেন। ভুক্তভোগী তরুণীকে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতার নয়নকে আদালতে পাঠানো হবে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ডিগ্রি পরীক্ষা দেওয়ার পর কিছু দিন আগে কাজের সন্ধানে গ্রামের বাড়ি থেকে সাভারে আসেন ওই তরুণী। কাজ না পেয়ে সাভারের আমিনবাজার এলাকার মধুমতি মডেল টাউনে ঘোরাঘুরি করার সময় শীলা বেগম ও তার স্বামী ইমরানের সঙ্গে পরিচয় হয়।

পরে থাকার কোনও জায়গা না থাকায় শীলা বেগম ও তার স্বামী ইমরান ওই তরুণীকে তাদের বাসায় থাকার প্রস্তাব দেন। তাদের কথায় বিশ্বাস করে তরুণী মধুমতি মডেল টাউন এলাকায় তাদের ভাড়া বাসায় যান।

এজাহারে বলা হয়েছে, গত রবিবার (৩০ আগস্ট) রাতে ইমরান বাসায় না থাকায় ওই তরুণী শীলা বেগমের সঙ্গে একই কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত আনুমানিক ১১টা ২০ মিনিটের দিকে নয়ন ওই কক্ষে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দেয়। এ সময় শীলা দরজার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে শীলার সহযোগিতায় নয়ন ওই তরুণীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে ‘খারাপ মেয়ে’ হিসেবে উপস্থাপন করা হবে- শীলা বেগম ভুক্তভোগী তরুণীকে এমন হুমকি দেয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, পরে শীলার স্বামী ইমরান বাসায় ফিরে ওই তরুণীকে কান্নারত অবস্থায় দেখতে পান। ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তরুণী তাকে বিষয়টি জানান। পরে ইমরান তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করান।

চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেন ওই তরুণী। পরে তাদের পরামর্শে তিনি সাভার মডেল থানায় মামলা করেন।