ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ৩ দশমিক ৩১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দুটি সার্ভিস সেতু যানবাহনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকার আশুলিয়ার ধউর এলাকায় ফিতা কেটে সেতু দুটির উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল ইসলাম। পরে যান চলাচলের জন্য সড়কটি খুলে দেওয়া হয়।
মূল এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ চলাকালে সাভার, আশুলিয়া ও ঢাকার মধ্যকার যানজট ও ভোগান্তি কমানোর অংশ হিসেবে এই বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। সেতু দুটি সম্পূর্ণ টোলমুক্ত রাখা হয়েছে, যেখানে সাধারণ যানবাহনের পাশাপাশি পথচারীরাও যাতায়াত করতে পারবেন। তবে নিরাপদ চলাচলের স্বার্থে সেতুতে নির্দিষ্ট তিন ধরনের উচ্চতা সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা অতিক্রমকারী যানবাহন সেতুতে উঠতে পারবে না।
প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা ইপিজেড থেকে আশুলিয়া হয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে কাওলায় ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হবে। এতে বিমানবন্দর থেকে কুড়িল, বনানী, তেজগাঁও হয়ে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী পর্যন্ত প্রায় ৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি নিরবচ্ছিন্ন উড়াল সড়ক নেটওয়ার্ক তৈরি হবে।
এ ছাড়া সাভার ও বাইপাইল এলাকার যানজট নিরসনে বাইপাইল মোড়ে একটি মাল্টি-লেভেল ইন্টারচেঞ্জ, বিমানবন্দরে প্রবেশের জন্য বিশেষ র্যাম্প এবং মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন-১ স্টেশনে যাতায়াতের পৃথক সংযোগ নির্মাণ করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ও চীন সরকারের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত ২৭ হাজার ৪৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত ভৌত অগ্রগতি ৬৬ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৫৬ দশমিক ০২ শতাংশ। ২০১৭ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০৩০ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়নাধীন এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রায় শূন্য দশমিক ২১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছে সরকার।