রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ফকিরপাড়া এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের কাজ প্রায় দেড় বছর ধরে ফেলে রেখেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ অবস্থায় ঠিকাদার বলছেন, বিটুমিনের দাম বেশি, দাম কমলে কাজ শুরু করবো।
সড়কের অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অন্তত ৮ থেকে ১০ বার চিঠি দেওয়া হলেও কাজ শুরু হয়নি। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের জন্য রাজবাড়ী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে সুপারিশ করেছেন গোয়ালন্দ উপজেলা প্রকৌশলী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দৌলতদিয়া ইউনিয়ন হেডকোয়ার্টার থেকে উজানচর জিসি হয়ে ফকিরপাড়া পর্যন্ত সড়কটির দৈর্ঘ্য ২ হাজার ৬৮৫ মিটার বা ২ দশমিক ৬৮৫ কিলোমিটার। এইচবিবি সড়ক পুনর্গঠন করে কার্পেটিংয়ের জন্য কাজটির চুক্তিমূল্য ধরা হয় ২ কোটি ৩৭ লাখ ৪৭ হাজার ২৫৪ টাকা। চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মেসার্স জাকাউল্লা অ্যান্ড ট্রেডার্স কাজটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ অক্টোবর কাজ শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ১৬ মে শেষ হওয়ার কথা ছিল। উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত কাজের প্রায় ৬৫ শতাংশ শেষ হয়েছে এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ৫০ শতাংশ বিল পরিশোধ করা হয়েছে।
তবে দীর্ঘদিন ধরে অবশিষ্ট কাজ বন্ধ রয়েছে। প্রয়োজনীয় স্থানে গাইড ওয়াল ও কার্পেটিং না করায় ভারী বৃষ্টিতে সড়কের বিভিন্ন অংশ বারবার ভেঙে যাচ্ছে। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নাজিম উদ্দিন ফকির, আফতার শেখ, খবির সরদার, হাসেম আলী ও মোবারক খাঁসহ কয়েকজন জানান, রাস্তার কারণে তারা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। ঠিকাদারকে বারবার কাজ শেষ করার কথা বলা হলেও তিনি কাজ করছেন না। বিটুমিনের দাম বেড়েছে—এমন অজুহাত দেওয়া হচ্ছে। মাঝেমধ্যে বৃষ্টিতে রাস্তা ভেঙে গেলে অনেক অনুরোধের পর কিছু বালু ফেলে তা সাময়িকভাবে ঠিক করা হয়। এভাবেই প্রায় দেড় বছর কেটে গেছে। দ্রুত সড়কের অবশিষ্ট কাজ শেষ করা দরকার।
অটোরিকশাচালক মফিজ সরদার বলেন, ‘রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় গর্ত হয়েছে। গাড়ি নিয়ে চলাচলের সময় ভয় লাগে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে কাজ ফেলে রাখা হয়েছে। কবে কাজ শেষ হবে, তারও কোনও নিশ্চয়তা নেই। আমরা দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানাই।’
তবে কাজ বন্ধ রাখার কারণ হিসেবে বিটুমিনের মূল্যবৃদ্ধির কথা জানিয়েছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় প্রতিনিধি সালাউদ্দিন চৌধুরী। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কাজটি যখন শুরু করেছিলাম, তখন ব্যারেলপ্রতি বিটুমিনের দাম ছিল প্রায় ১০ হাজার টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে ১৮ হাজার টাকার বেশি হয়েছে। তাই কাজ করছি না। প্রকৌশল অফিস থেকে বারবার চিঠি দিয়েছে। তাদের সঙ্গে কথা বলে দেখি কী করা যায়। কাজ তো করতে চাই। তবে বিটুমিনের দাম কমলে কাজ শুরু করবো।’
এ ব্যাপারে গোয়ালন্দ উপজেলা প্রকৌশলী ফয়সাল জাহাঙ্গীর স্বপ্নীল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রাস্তার কাজ যথাসময়ে শেষ না হওয়ায় জনসাধারণের চলাচলে ভোগান্তি হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অন্তত ৮ থেকে ১০ বার চিঠি দিয়ে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য তাগিদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা বিষয়টিতে কোনও গুরুত্ব দেয়নি। তাই বাধ্য হয়ে কাজটির চুক্তি বাতিলের জন্য নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’
রাজবাড়ী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে এক-দুই দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যদি জনস্বার্থকে এভাবে বারবার অবজ্ঞা করতেই থাকে, তাহলে চুক্তি বাতিল করে অবশিষ্ট কাজের জন্য পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হবে।’









