আখক্ষেতে এক নারীর লাশ, রাস্তার পাশে আরেকজনের

রাজবাড়ীতে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেলেও অপরজনের পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।

বুধবার রাতে গোয়ালন্দ উপজেলার চর দৌলতদিয়া আইনুদ্দিন প্রামাণিক পাড়ার আখক্ষেত থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার (০৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার সদর উপজেলার শহীদ ওহাবপুর ইউনিয়নের ষাটনল বড়নুরপুর গ্রামের রাস্তার পাশ থেকে অজ্ঞাতনামা আরেক নারীর (৩০) লাশ উদ্ধার করা হয়।  

আখক্ষেত থেকে উদ্ধার নিহত নারীর নাম নবীরন বেগম (৫৫)। তিনি আইনুদ্দিন প্রামাণিক পাড়ার কৃষক রহিম শেখের স্ত্রী। লাশ উদ্ধারের পর থেকে আখক্ষেতের মালিক রফিকুল মৃধা ও লুৎফর মৃধা পলাতক রয়েছেন। 

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর না ফেরায় নবীরন বেগমের খোঁজ করতে থাকেন স্বজনরা। রাত ৮টার দিকে টর্চলাইট নিয়ে আখক্ষেতে তল্লাশি করে আবর্জনায় ঢেকে রাখা হাত-পা বাঁধা অবস্থায় নবীরনের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। 

নবীরনের ছেলে রাসেল শেখ বলেন, ‘সন্ধ্যায় মাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না খবর পেয়ে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে বাড়িতে আসি। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে আখক্ষেতে মাকে পড়ে থাকতে দেখে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত বলে জানান। তবে মায়ের কীভাবে মৃত্যু হয়েছে, তা নিশ্চিত হতে পারিনি।’ 

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, রফিকুল মৃধার পুকুরপাড় সংলগ্ন আখক্ষেত থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় নবীরনকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। 

ঘটনাটি নিয়ে নিহতের স্বজনদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ও অর্থ বিনিময়ের অভিযোগে রহস্য ঘনীভূত হয়েছে। নিহতের ছেলে রাসেল শেখের দাবি, ধানক্ষেতে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তার মায়ের মৃত্যু হয়েছে এবং টাকা লেনদেনের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

তবে নিহতের ভাই আবজাল শেখ দাবি করেছেন, তার বোনকে হত্যা করা হয়েছে। স্থানীয়দের সিদ্ধান্তে চার লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসার সিদ্ধান্ত হয় এবং এজন্য ময়নাতদন্ত করাতে চাচ্ছেন না।

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রথমে পরিবারের পক্ষ থেকে স্ট্রোকের কথা বলা হলেও পরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার বিষয়টি জানা যায়। তবে নানা গুঞ্জন ও রহস্যের সৃষ্টি হওয়ায় লাশ উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন দেখে মৃত্যুর সঠিক কারণ জেনে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

চর দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক বলেন, ‘আখক্ষেতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যাওয়ায় ঝামেলা এড়াতে নবিরনের লাশ গুম করতে গর্তে পুঁতে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছিল। আইনি ঝামেলা এড়াতে স্থানীয় একটি পক্ষ চার লাখ টাকায় বিষয়টি মীমাংসা করেছে বলে জানতে পেরেছি।’ 

অপরদিকে শহীদ ওহাবপুর ইউনিয়নের বড়নুরপুর গ্রামের রাস্তার পাশ থেকে আজ বেলা ১১টার দিকে অজ্ঞাতনামা এক নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। 

সদর থানার ওসি উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অন্য কোনও স্থানে ওই নারীকে হত্যা করে লাশ এখানে ফেলে রাখা হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে। নিহত নারীর পরিচয় শনাক্ত এবং ঘটনার কারণ উদঘাটনে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। পরিচয় শনাক্তের জন্য ফরিদপুর থেকে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও পিবিআইকে আসার জন্য বলা হয়েছে। পরিচয় শনাক্তের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’