নাটোরে আনারুল ইসলাম (৬০) নামের এক হোমিওপ্যাথি চিকিৎসককে কুপিয়ে হত্যার পর সড়কে লাশ ফেলে গেছে দুর্বৃত্তরা। রবিবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে নাটোর সদর উপজেলার চাঁদপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে কারা তাকে হত্যা করেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিহত আনারুল ইসলাম রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার কাফুরিয়া ইউনিয়নের দাসমাড়িয়া গ্রামের মৃত আজাহার আলীর ছেলে। তিনি পেশায় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ছিলেন। নাটোর ও পুঠিয়া উপজেলা সীমান্তের নাটোর অংশের চাঁদপুর বাজারে তার একটি হোমিও চিকিৎসালয় রয়েছে। সেখানে বসেই তিনি স্থানীয় লোকজনকে চিকিৎসাসেবা দিতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানান, রবিবার রাত ৮টার দিকে চিকিৎসালয়ের পাশের পাকা সড়কে আনারুলকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে তাকে উদ্ধার করে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ডা. মইনুল হক জানান, আনারুল ইসলামকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। তার মাথা, বুক, পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের একাধিক চিহ্ন রয়েছে।
তিনি বলেন, আনারুলকে হাসপাতালে আনা লোকজন প্রথমে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
কাফুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানান, হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক আনারুলকে হত্যার পর দুর্বৃত্তরা তার লাশ সড়কে ফেলে গেছে বলে তিনি শুনেছেন। আনারুলের সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল বলেও তার জানা নেই। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
নাটোর সদর থানার ওসি মনসুর রহমান বলেন, আনারুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। ইতিমধ্যে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।









