আশুলিয়ার জামগড়ার কারখানার সীমানা দেয়ালের ভেতর বিশেষভাবে তৈরি লরিতে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে জামগড়া চৌরাস্তা এলাকার প্রীতি গ্রুপের পোশাক কারখানায় এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
জিরাবো ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আপাতত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না।’
প্রীতি গ্রুপের এফঅ্যান্ডএফ কারখানার অ্যাডমিন-ম্যানেজার হেমায়েত উদ্দিন বলেন, ‘কারখানার সীমানা ঘেরা প্রাচীরের পাশে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আগুন লাগে। তবে কারখানার ভেতর কোনও শ্রমিক আটকে নেই। এর আগেই সবাই বাইরে চলে এসেছেন।’
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রনি বলেন, ‘বিস্ফোরণের শব্দে ও আগুনে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আমি নিজে দুজন দগ্ধ ও গুরুতর আহত এক শ্রমিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। এ ছাড়া কারখানার পাশে রাস্তায় থাকা রিকশাচালকসহ অন্তত পাঁচ জন আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণে বয়লার বা পাইপের লোহার খণ্ড উড়ে গিয়ে পাশের বাড়িঘর ও রাস্তায় পড়ে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। এখন পর্যন্ত ১০ জন আহত হন।’
আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালের ব্যবস্থাপক হারুন অর রশীদ বলেন, ‘হাসপাতালে এ পর্যন্ত পাঁচ জন দগ্ধ রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে দুজনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের পুরো শরীর দগ্ধ হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
সাভার ও আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘ঘটনাস্থলে উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ চলছে। বিস্ফোরণটি বয়লার, নাকি সিলিন্ডার থেকে হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রচণ্ড আগুনের কারণে উদ্ধারকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে পুরোপুরি ভেতরে প্রবেশ করতে পারছেন না। হতাহতের সঠিক সংখ্যা পর্যবেক্ষণ শেষে পরবর্তীতে জানানো হবে।’