ঢাকার আশুলিয়ায় একটি পোশাক কারখানা চত্বরে কাভার্ডভ্যানে থাকা সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ছয় জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ২০ জন। এ ছাড়া আগুন ছড়িয়ে পড়লে সিলিন্ডারবাহী গাড়িসহ আরও ৫-৬টি গাড়িতে আগুন ধরে যায়। আহতদের মধ্যে গুরুতর দুজনকে ইতিমধ্যে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ১১ টার দিকে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘ক্যাভার্ডভ্যানের ভেতর থেকে আরও পাঁচ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।’
এর আগে সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে জামগড়া চৌরাস্তা সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে এক নারী নিহত হন। খবর পেয়ে জিরাবো ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ৪টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহত জয়নব বেগম (৫৫) গাজীপুরের কাশিমপুরের ইসরকান্দি এলাকার মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী। বিস্ফোরণের পর সিলিন্ডার উড়ে গিয়ে তার মাথায় পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ক্যাভার্ডভ্যানের ভেতর থেকে আরও পাঁচ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ছয় জনে।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই বিকট শব্দে লরি থেকে সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয় এবং চারদিকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় লরির যন্ত্রাংশ বা সিলিন্ডারের অংশ ছিটকে গিয়ে পার্শ্ববর্তী দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক নারীর মাথায় পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
সাভার ও আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘কারখানার গেটের সামনে থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কারখানার ভেতরে একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সেখান থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের কোম্পানির পরিত্যক্ত একটি জায়গায়। বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ছয় জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।’
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ঢাকা জোন-৪-এর উপসহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান বলেন, ‘জিরাবো ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট এবং ডিইপিজেড ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট একসঙ্গে পাঠানো হয়। ৭টা ১০ মিনিটে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে তারা পাঁচ থেকে ছয়টি গাড়িতে আগুন জ্বলতে দেখতে পায়। পরে রাত ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। কাভার্ডভ্যানের ভেতরে এলপিজি সিলিন্ডার ছিল। তবে আগুন কোথা থেকে লেগেছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’