সাভারের আশুলিয়ায় প্রিটি গ্রুপের পার্কিংয়ে কাভার্ড ভ্যানে মজুত করা সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা করার পর চার দিন পেরিয়ে গেলেও এ ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এছাড়া ঘটনার ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও আলামত জব্দের কাজ শেষ করতে পারেনি সংস্থাটি।
গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনায় কারখানার ছয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে পর দিন আশুলিয়া থানায় মামলা করেন উপপরিদর্শক (এসআই) আবু তালেব।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হারুন অর রশীদ বলেন, ‘মামলার আসামিদের এখনও গ্রেফতার করতে পারিনি। এ ঘটনায় কারা জড়িত তাদের শনাক্ত ও তদন্ত চলছে। আলামত জব্দ করছি। ইতোমধ্যে কারখানা থেকে কিছু সিসিটিভি ফুটেজ জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া পুড়ে যাওয়া কয়েকটি গাড়ি জব্দ করে থানায় আনা হয়েছে। আরও কিছু ভিডিও সংগ্রহ করতে হবে। আরও কিছু আলামত জব্দ করা হবে সেই প্রক্রিয়ায় কাজ করছি। যে ছয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামে মামলা হয়েছে তারা পলাতক থাকায় গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।’
মামলায় এখন পর্যন্ত একজন আসামিও গ্রেফতার করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শ্রমিকনেতারা।
বাংলাদেশ গামের্ন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইন বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন মিন্টু বলেন, ‘প্রথমত পুলিশ মামলাটি করেছে প্রিটি গ্রুপের মালিক ও ম্যানেজিং ডিরেক্টরকে বাদ দিয়ে। এ কারণে মামলাটি নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্বিতীয়ত, ঘটনার ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও মামলার একজন আসামিকে গ্রেফতার না করায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আমরা চাই, দ্রুত মামলার আসামিদের গ্রেফতার করা হোক। তদন্ত করে মামলায় মালিক ও ম্যানেজিং ডিরেক্টরকে আসামি হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হোক।’
এখনও আসেনি তদন্ত প্রতিবেদন
এদিকে এ ঘটনায় ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সাত কর্ম দিবস বেধে দিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই তদন্ত কমিটিকে ১৫ কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এখনও সময় বাকি আছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কমিটি ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালকের কাছে প্রতিবেদন জমা দেবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় জেলা প্রশাসনের একজন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে চার সদস্যের আরও কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে সেই কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।’
জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির সদস্য সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমাদের তদন্ত কার্যক্রম শেষের দিকে। আগামী দুই এক দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, ভয়াবহ এ বিস্ফোরণের ঘটনায় আট জন নিহত হন। আহত হন আরও অন্তত ২৫ জন।