স্কুলে ঢুকে কেন এমন করলেন অভিভাবক, আসলে কী ঘটেছিল

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় একটি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে ঢুকে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও শূন্যে তুলে একাধিকবার আছাড় দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের রাজদিয়া অভয় পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম মো. হাবিব (১২)। সে বিদ্যালয়ের ‘গোলাপ’ শাখার শিক্ষার্থী। হাবিব উপজেলার রামানন্দ এলাকার মো. হোসেনের ছেলে। অভিযুক্ত আটক ব্যক্তির নাম নাহিদ শেখ (৩৫)। তিনি উপজেলার পূর্ব রাজদিয়া গ্রামের মৃত আবদুজ জব্বার শেখের ছেলে।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে যে যার বেঞ্চে বসে আছে। এ সময় নাহিদ শেখ শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন। তিনি বেঞ্চ থেকে হাবিবকে টেনেহিঁচড়ে ঘাড় ধরে নিচে ফেলে দেন। এরপর দুই হাতে শূন্যে তুলে ওই ছাত্রকে পরপর দুবার আছাড় দেন। সেইসঙ্গে তিনি হাবিবকে কিল-ঘুষিও মারেন। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সামনেই ঘটনাটি ঘটে।

পুলিশ ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার ষষ্ঠ শ্রেণির ‘গোলাপ’ শাখার শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান ও হাবিবের মধ্যে ঝগড়া হয়। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি জেনে মীমাংসা করে দেন। আজ সকালে প্রাত্যহিক সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা যে যার শ্রেণিকক্ষে চলে যায়। আতিকুর ও হাবিবও নিজেদের শ্রেণিকক্ষে ছিল।

সকাল সোয়া ১০টার দিকে আতিকুরের ফুফাতো ভাই নাহিদ শেখ ষষ্ঠ শ্রেণির ‘গোলাপ’ শাখায় প্রবেশ করেন। এ সময় তিনি হাবিবকে বেঞ্চ থেকে তুলে এনে তার ঘাড় ধরে মারধর করেন এবং একাধিকবার আছাড় দেন। শ্রেণিকক্ষে থাকা শিক্ষার্থীরা ভয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসেন।

পরে প্রধান শিক্ষক নাহিদ শেখকে তার কক্ষে নিয়ে যান এবং বিষয়টি সিরাজদিখান থানার পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে সিরাজদিখান থানার পুলিশ বিদ্যালয়ে গিয়ে নাহিদ শেখকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‌‘বুধবার দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে ঝগড়ার জের ধরে আজ সকালে ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে। নাহিদকে শুক্রবার আদালতে পাঠানো হবে।’

এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের অভিভাবক সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘শিশুদের মধ্যে ঝগড়া হতে পারে। তাদের মধ্যে আবার সমাধানও হয়ে যায়। প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ না করে এভাবে শ্রেণিকক্ষে ঢুকে আরেক শিক্ষার্থীকে মারধর করা খুবই লজ্জাজনক। এমন কাজ ওই অভিভাবকের করা ঠিক হয়নি।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, ‘ওই অভিভাবককে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করতে দেখেন শিক্ষকরা। তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, কী কারণে তিনি বিদ্যালয়ে এসেছেন। নাহিদ শেখ বলেছিলেন, তার ফুফাতো ভাই আতিকুরের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। কিছুক্ষণ পর হাবিবের কান্নাকাটির বিষয়টি জানতে পেরে আমরা সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করি। তখন ঘটনাটি দেখতে পাই।’

প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, ‘গতকাল বিদ্যালয় ছুটির পর আতিকুর কান্নাকাটি করছিল। তাকে বুকে টেনে নিয়ে আদর করে বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছিলাম। এরপরও বিদ্যালয়ে এমন ঘটনা ঘটবে, আমরা ভাবতেও পারিনি। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’