চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে কৃষকের ঘরে আগুন-লুটপাটের অভিযোগ

মাদারীপুরের কালকিনিতে শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক কৃষকের বসতঘর, রান্নাঘর ও গোয়ালঘরে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। কৃষকের অভিযোগ, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে চেয়ারম্যান তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার সাহেবরামপুর ইউনিয়নের মধ্যেরচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার সাহেবরামপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামের ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে কৃষক হাবুল শিকদারের (৫৫) বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মুরাদ সরদারের উদ্যোগে সালিশের আয়োজন করা হয়। এ জন্য সোমবার বিকালে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই পক্ষকে উপস্থিত হতে বলা হয়। তবে হাবুল শিকদার সেখানে উপস্থিত না হওয়ায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

পরে ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে উত্তেজিত লোকজন হাবুল শিকদারের গ্রেফতারের দাবিতে ঝাড়ুমিছিল বের করেন। মিছিল থেকে তার বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। একপর্যায়ে বসতঘর, রান্নাঘর ও গোয়ালঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে কালকিনি থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

স্থানীয় একটি পক্ষের দাবি, মধ্যেরচর এলাকার আনোয়ার সরদারের পরিবারের সঙ্গে হাবুল শিকদারের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এ বিরোধের জেরে তাকে হেয়প্রতিপন্ন ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে মব তৈরি করে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

সোমবার দুপুরে হাবুল ও তার পরিবারের সদস্যরা এলাকা ছেড়ে চলে যান।

হাবুল শিকদার বলেন, ‘জমি নিয়ে বিরোধের জের থেকে আমার নামে মিথ্যা অপবাদ ছড়ানো হয়েছে। আমি আগেই জানতাম, আমার ওপর হামলা হবে। চেয়ারম্যান আমার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। কারণ, আমি তার নির্বাচন করিনি। তিনি সবাইকে উত্তেজিত করে ও ইন্ধন দিয়ে আমার বসতঘর, রান্নাঘর ও গোয়ালঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন। ওরা আমার সবকিছু শেষ কইরা দিছে। আমি এর বিচার চাই।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাহেবরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুরাদ সরদার বলেন, ‘আমার কাছে মীমাংসার জন্য আসলে আমি দুই পক্ষকে ডাকি। কিন্তু হাবুল আসেনি। তাই উত্তেজিত লোকজন হাবুলের বাড়িতে আগুন দিয়েছে। এখানে আমার নেতৃত্ব বা ইন্ধন নেই।’

ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা মীমাংসাযোগ্য কিনা জানতে চাইলে মুরাদ সরদার বলেন, ‘আমি মীমাংসা করতে চাইনি। তারা বলায় মীমাংসা করতে রাজি হই।’

কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষ এড়াতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ধর্ষণচেষ্টা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।