আদালতে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের দুই পক্ষের হাতাহাতি, পিপি আহত

নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির (বার) ভবনে বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। এতে নারায়ণগঞ্জ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জাকির আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী ভবনের দ্বিতীয় তলায় মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটে। অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকেও হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার বেশ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পরে আদালতপাড়ায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও তার অনুসারী আইনজীবীদের সঙ্গে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর আবুল কালাম আজাদ জাকির ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক নয়নের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের আইনজীবীরা আরও উত্তেজিত হয়ে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কি করে একে অপরের ওপর চড়াও হন। 

এ সময় আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচএম আনোয়ার প্রধানকে সাখাওয়াত হোসেন খানের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়। এতে পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেনকে রক্ষা করতে তার দেহরক্ষী পুলিশ সদস্যকেও বেগ পেতে দেখা যায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেলা আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আদালতপাড়ায় বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের মধ্যে দুটি গ্রুপ সৃষ্টি হয়েছে। আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচএম আনোয়ার প্রধান ও পিপি আবুল কালাম আজাদ জাকির একটি গ্রুপের নেতৃত্বে আছেন, অন্যদিকে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান এবং আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ন কবির অপর গ্রুপে রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, দুই পক্ষের আইনজীবীরা আদালতপাড়ায় আইনজীবী সমিতির ভবনের দ্বিতীয় তলায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পাশাপাশি কক্ষে দুপুরের খাবার খেতে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাদের মধ্যে আগে থেকেই উত্তেজনা ছিল। আসন্ন আইনজীবী সমিতির নির্বাচন ও ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের স্থানান্তর নিয়ে উভয়পক্ষের আলোচনার একপর্যায়ে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। যা পরে হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানও লাঞ্ছিত হন। জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর আবুল কালাম আজাদ জাকির ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক নয়নসহ উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

এ বিষয়ে আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার প্রধান বলেন, ‌‘সাখাওয়াত হোসেন ও তার অনুসারীরা আমাদের দিকে তেড়ে এসে হামলা চালান ও গালিগালাজ করেন। তারা এডিশনাল পিপি ওমর ফারুক নয়নকে মারধর করেন। পরে আমরা প্রতিবাদস্বরূপ তাদের এক ঘণ্টার বেশি সময় অবরুদ্ধ করে রেখেছি।’

পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জাকির বলেন, ‘সাখাওয়াত হোসেন খান নারায়ণগঞ্জ আদালতকে দুই ভাবে বিভক্ত করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করছেন। যারাই তার মতের বিরুদ্ধে যাচ্ছে তাদেরকে হটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে আজ এ ঘটনা ঘটেছে।’

আইনজীবী সমিতির সভাপতি সরকার হুমায়ূন কবির বলেন, ‘সাখাওয়াত হোসেনসহ অন্যদের নিয়ে আমার রুমে খাওয়া-দাওয়া করছিলাম। পাশের রুম থেকে সেক্রেটারির লোকজন উসকানিমূলক বাজে আওয়াজ দিচ্ছিল। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। আমার মনে হয়, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই হয়তো ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে।’

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তারা নিজেদেরকে চিনতে ভুল করেছে। এগুলো নিজেদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার জন্য করা হয়েছে। এরে পেছনে কার ইন্দন রয়েছে তা দেখা দরকার।’

আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ বলেন, ‘আসন্ন আইনজীবী সমিতির নির্বাচন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে।’