হাত-পা বেঁধে কিশোর হত্যা, ৫ বছর পর রহস্য উদ্ঘাটনে পিবিআই

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে কিশোর ওমর আলী হত্যা মামলার পাঁচ বছর পর এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (পিবিআই)। সংস্থাটি বলছে, পরকীয়া নিয়ে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে ওমরকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নজরুল ইসলাম (৪৮) নামে একজনকে গ্রেফতারের পর আদালতে তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করে পিবিআই জানায়, গত সোমবার (৫ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে ঢাকার আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকার লাল মিয়া টাওয়ারের একটি ভাড়া বাসা থেকে নজরুলকে গ্রেফতার করা হয়। পিবিআই ফরিদপুর জেলার বিশেষ তদন্ত দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।

মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ৪ জানুয়ারি বালিয়াকান্দি উপজেলার ঢোলজানী গ্রামের একটি ঘাসের খেত থেকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত অবস্থায় ওমরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বালিয়াকান্দি থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে ওই বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই ফরিদপুর জেলা।

পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে, গ্রেফতার নজরুল নিহত ওমরের গ্রাম্য সম্পর্কের নানা। মামলার অন্য আসামিদের সঙ্গে ওমরের বন্ধুত্ব ছিল এবং তারা নিয়মিত একসঙ্গে মাদক সেবন করতেন। তদন্তে আরও জানা যায়, ওই ব্যক্তিদের দুজনের স্ত্রীর সঙ্গে ওমরের কথিত পরকীয়া সম্পর্ক এবং সম্পর্ক তৈরির চেষ্টাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।

পিবিআইয়ের ভাষ্য, এ বিরোধের জেরে ওই দুই ব্যক্তি ওমরকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। হত্যাকাণ্ডে সহায়তার জন্য একজনের সঙ্গে ৫০ হাজার টাকায় চুক্তি করা হয়। পরে বিষয়টি জানতে পেরে নজরুলও পরিকল্পনায় যুক্ত হন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে ওমরকে পথ থেকে ধরে একজনের বাড়ির টয়লেটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নজরুল তার জামা খুলে মুখ ও হাত বেঁধে দেন। পরে অন্যরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় ওমরকে একটি মুরগির খামারে নিয়ে আবারও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করে মরদেহ একটি ঘাসের খেতে ফেলে রাখা হয়।

পিবিআই আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর নজরুলকে ৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। এরপর তিনি এলাকা ছেড়ে ঢাকায় চলে যান এবং অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন।

পিবিআই ফরিদপুর জেলার এসপি রবিউল ইসলাম বলেন, তদন্তে ক্রাইমসিন বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা তথ্য, বিশ্বস্ত সোর্স এবং বিভিন্ন নথির তথ্য সমন্বয় করা হয়েছে। এসব তথ্য-আলামত এবং গ্রেফতার ব্যক্তির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনা করে হত্যাকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দিক উদ্ঘাটন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, অপরাধীরা ঘটনার পর তথ্য ও আলামত গোপনের চেষ্টা করলেও তথ্যনির্ভর ও প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব।