যুবদল নেতার বাড়ির সামনে কাফনের কাপড়, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ লেখা চিরকুট

নরসিংদী সদর উপজেলার আমদিয়া ইউনিয়ন যুবদলের এক নেতার বাড়ির প্রধান ফটকের সামনে কাফনের কাপড়, আগরবাতি ও গোলাপজল রেখে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে সেখানে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ লেখা একটি চিরকুট পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী। মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে আমদিয়া ইউনিয়নের বনাইদ গ্রামের বাসিন্দা ও ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোবারক হোসেনের বাড়ির প্রধান ফটকের সামনে এসব জিনিস পাওয়া যায়। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে রাত ১০টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে আলামতগুলো উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়। মোবারক হোসেন (৫০) বনাইদ গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার পাশাপাশি তিনি ব্যবসা করেন।

মোবারক হোসেন জানান, ব্যবসায়িক কাজে তিনি ঢাকায় ছিলেন। বাড়ি থেকে ফোন করে ঘটনাটি জানানো হলে দ্রুত তিনি বাড়িতে আসেন। পরে দলের স্থানীয় নেতাদের পাশাপাশি পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। পুলিশ এসে শপিং ব্যাগটি খুললে এর ভেতরে সাদা কাফনের কাপড়, গোলাপজল, আগরবাতি ও ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ লেখা একটি চিরকুট পাওয়া যায়।

মোবারক হোসেনের দাবি, চিরকুটে তাকে গালাগালি করা হয়েছে। পাশাপাশি আসন্ন ইউপি নির্বাচনে ৩ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী মোশাররফ মেম্বারের বিপক্ষে যেন তিনি প্রার্থী না হন, সে বিষয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে। চিরকুটের বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় মাধবদী থানায় অভিযোগ দিয়েছি জানিয়ে মোবারক বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। কারা ঘটনাটি ঘটিয়েছে, তা জানি না। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরাপত্তা চাই।’

ঘটনার পর মোবারক হোসেনের বাড়িতে স্থানীয় লোকজন ও দলীয় নেতাকর্মীদের ভিড় দেখা যায়। আমদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইনুল হক মিয়া বলেন, ‘কে বা কারা চিরকুট লিখে মোবারক হোসেনকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে। আমরা ঘটনার সঠিক তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‌‘বিষয়টি জানার পরপরই মোবারক হোসেনের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়। দুর্বৃত্তদের রেখে যাওয়া আলামত থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’