এই সরকার শহীদদের রক্তের সঙ্গে গাদ্দারি করেছে: মামুনুল হক 

খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, জুলাই শহীদদের রক্ত মাড়িয়ে ক্ষমতার মসনদে বসে বর্তমান সরকার শহীদদের রক্তের সঙ্গে গাদ্দারি করেছে। শনিবার (১১ অক্টোবর) বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পৌর মুক্তমঞ্চে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল গ্যাস বিদ্যুৎতের মূল্য বৃদ্ধি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির প্রতিবাদে নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এ কথা বলেন।

মামুনুল হক বলেন, শহীদদের রক্তের সঙ্গে যথাযথ ঈমানদারি বিএনপি করতে পারেনি। ৩৬ জুলাই যে বিপ্লব হয়েছিল, সেই বিপ্লবের প্রধান দুটি আকাঙ্ক্ষা ছিল। ১ নম্বর আকাঙ্ক্ষা ছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে হবে। সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা থেকে সব বৈষম্য, বেইনসাফি দূর করতে হবে। মেধার ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে। সরকার, প্রশাসন এবং রাষ্ট্রের সব জায়গায় দলীয় পরিচয় নয়, দলীয় ক্যাডার নয়, দলীয় চাঁদাবাজ নয়, দলীয় নেতাকর্মীর পরিচয় নয়, যোগ্যতা এবং মেধার ভিত্তিতে রাষ্ট্র গঠন করতে হবে। প্রশাসনে নিয়োগ ও পদোন্নতি যোগ্যতার ভিত্তিতে হতে হবে- এটা ছিল ’২৪-এর জুলাই বিপ্লবের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য।

মামুনুল হক বলেন, ২৪-এর জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় উদ্দেশ্য ছিল ফ্যাসিবাদের পথ বন্ধ করতে হবে। পুরোনো ফ্যাসিবাদ বিদায় নেওয়ার পর ক্ষমতার মসনদে এসে নতুন কোনও ফ্যাসিবাদ যেন জন্ম নিতে না পারে, সেই ফ্যাসিবাদের পথ রুদ্ধ করাই ছিল জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় আকাঙ্ক্ষা। আর এই বৈষম্যহীন বাংলাদেশ, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ তৈরি করার জন্যই; বৈষম্যহীন এবং ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়বার জন্যই ৩৩টি রাজনৈতিক দল দীর্ঘ ৯ মাস ৮৩টি ম্যারাথন অধিবেশন করে একটি সনদ প্রণয়ন করেছে। ঐক্যমতের ভিত্তিতে ন্যাশনাল কনসেনসাস কমিশনে সেই জাতীয় সনদের নামই হলো ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’।

​তিনি আরও বলেন, সংসদ নির্বাচন ছিল সরকার গঠনে, গণভোট ছিল রাষ্ট্র গঠনের। একই নির্বাচন কমিশনের একই তফসিলের মাধ্যমে একই দিনে দুটি ভোট হলো। একইসঙ্গে দুই ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হলো। প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেলো, অনেক ইঞ্জিনিয়ারিং আর মেকানিজমের পরেও ধানের শীষ এবং তার সহযোগীরা ভোট পেলো ৫০ শতাংশ। আর বিপরীতে গণভোট ‘হ্যাঁ’ ব্যালটে ভোট পড়লো প্রায় ৭০ শতাংশ। ​অর্থাৎ বাংলাদেশের ৫০ শতাংশ মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়েছে সরকার গঠনের জন্য। ৭০ শতাংশ জনগণ ‘হ্যাঁ’ ব্যালটে ভোট দিয়েছে রাষ্ট্র মেরামত করার জন্য।
 
মামুনুল হক বলেন, আমরা দেখলাম বাংলাদেশের ৭০ ভাগ মানুষের ভোটাধিকারের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের এক অহংকারী ইতিহাস। আমরা দেখলাম শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়ার হাতে গড়া বিএনপির নতুন বিশ্বাসঘাতকতার চেহারা। উনারা সংসদ সদস্যের শপথ গ্রহণ করলেন, কিন্তু রাষ্ট্র মেরামত করার লক্ষ্যে গঠিত নির্বাচনের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ করতে অস্বীকার করলেন। সংসদ সদস্যের শপথ গ্রহণ করার কারণ কী? কারণ সংসদের শপথ নিলে সরকার গঠন করা যাবে। সরকার গঠন করলে মন্ত্রী হওয়া যাবে। মন্ত্রী হলে দু’ পয়সা কমানো যাবে। মন্ত্রী হলে চাঁদাবাজি করা যাবে। মন্ত্রী হলে দুর্নীতি আর লুটপাট করা যাবে। মন্ত্রী হলে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, বাংলাদেশের গ্যাস, বাংলাদেশের তেল গোটা এনার্জি সেক্টরকে অকার্যকর করে দিয়ে বাংলাদেশের রফতানিমুখী বাণিজ্যকে ধ্বংস করে সব বাণিজ্য ভারতের হাতে তুলে দেওয়া যাবে।

তিনি বলেন, আমরা ভালো করে জানি, এই জুলাই বিপ্লব এসেছে আমার শাপলার রক্তের বিনিময়ে। এই জুলাই বিপ্লব এসেছে ২০০২-২১ সালের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৫ শহীদের রক্তের বিনিময়ে। জুলাই বিপ্লব এসেছে ২০২৪ সালের প্রায় শতাধিক কওমি মাদ্রাসার আলেম-ওলেমা, আলিয়া মাদ্রাসার আলেম-ওলেমা, স্কুল-কলেজ-ইউনিভার্সিটির যুবক-তরুণ ছাত্র-ছাত্রীদের রক্তের বিনিময়ে।  এত রক্ত দিয়েছি দেশটাকে কারও হাতে ইজারা দেওয়ার জন্য নয়। দেশটাকে কেউ নিজের বাবার সম্পদ মনে করবে, সে জন্য বাংলাদেশ স্বাধীন করা হয়নি। পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, গণভোটের গণরায় কার্যকর না করা হলে জুলাই বিপ্লব ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। 

সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা খন্দকার আব্দুল আজিজের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহসিনুল হক, জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম কাসেমী, জেলা জামায়তের আমির মোবারক হোসেন আখন্দসহ খেলাফত মজলিসের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।