গাজীপুরের শ্রীপুরে পারিবারিক কলহের জেরে নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে মাথায় আঘাত করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেই জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানান বলে পুলিশ জানিয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের বড়চালা গ্রামের নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত ৩৫ বছর বয়সী সীমা রানী দাস রাজাবাড়ি ইউনিয়নের চিনাশুকানিয়া গ্রামের ঘাতক স্বামী উদ্ভব চন্দ্র দাসের (২৭) স্ত্রী। উদ্ভব একই গ্রামের নকুল দাসের ছেলে। স্বজনদের ভাষ্য, তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং কোনো কাজকর্ম করতেন না।
উদ্ভব চন্দ্র দাসের ভগ্নিপতি শুভ চন্দ্র দাস বলেন, প্রায় দুই বছর আগে ফেসবুকের মাধ্যমে সীমা ও উদ্ভবের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তারা বিয়ে করেন। এর আগে সীমা রানীর অন্যত্র বিয়ে হয়েছিলো। সেই সংসারে তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
শুভ চন্দ্র দাস আরও বলেন, উদ্ভব এলাকাবাসী বা আশপাশের কাউকে তার বাড়িতে প্রবেশ করতে দিতেন না। বাড়িতে উদ্ভব, তার স্ত্রী, বাবা ও বড় বোন থাকতেন।
পুলিশকে উদ্ভব জানান, ঘটনার সময় রাত সাড়ে ১০টার দিকে তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী খাটে শুয়ে ছিলেন। তারা পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলছিলেন। একপর্যায়ে কথা-কাটাকাটি হলে তিনি খাপ দিয়ে স্ত্রীর মাথায় আঘাত করেন। পরে ধারালো বটি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে হত্যা করেন।
শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, স্ত্রীকে হত্যার পর উদ্ভব চন্দ্র দাস ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ তার ঘর থেকে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
ওসি আরও জানান, নিহতের শরীরে, মাথায় এবং গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।