‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর

গোপালগঞ্জে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। সেইসঙ্গে দুই পুলিশ সদস্যকে মারধর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে সদর উপজেলার রঘুনাথপুর খেয়াঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় লাঠিসোঁটা হাতে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হামলায় অংশ নিতে দেখা যায়।

এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি নিজেদের ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করেছেন মিছিলে অংশ নেওয়া ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী।

ভিডিওতে দেখা যায়, রঘুনাথপুরের চরপাড়া সড়ক থেকে লাঠিসোঁটা হাতে মিছিল নিয়ে খেয়াঘাট এলাকায় পৌঁছান মিছিলকারীরা। সেখানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে টহলরত পুলিশের গাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। গাড়িতে ভাঙচুরের পরপরই পুলিশ সদস্যরা গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সদর থানার বেদগ্রাম খেয়াঘাট এলাকায় পুলিশের নিয়মিত টহল চলছিল। এ সময় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন যুবলীগ নেতা মিলন ও ছাত্রলীগ নেতা মুরসালিনের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন শেখ হাসিনার পক্ষে মিছিল করছিলেন। পুলিশ বাধা দিতে গেলে মিছিলকারীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালান। এতে সদর থানার এসআই ফুল মিয়াসহ দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। এ সময় পুলিশের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। পরে গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে সরে যান পুলিশ সদস্যরা। 

ওসি আরও বলেন, ‘আহত দুই পুলিশ সদস্যকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত নিষিদ্ধ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

এদিকে হামলার খবর পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। ঘটনার পর ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শহরের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য সদস্যরা জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ইতিমধ্যে চেকপোস্ট ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।