শ্রমিক আন্দোলনের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা: আ.লীগের ২১ নেতাকর্মীসহ দেড় হাজার আসামি

নারায়ণগঞ্জে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। মামলায় নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ২১ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও এক হাজার থেকে দেড় হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে।

এই মামলায় ছয় জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিলন ফকির বাদী হয়ে মামলাটি করেন। 

গ্রেফতার ছয় আসামি হলেন- ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকার মফিজুল ইসলামের ছেলে শামীম হাসান (২৮), কোতালেরবাগ বউবাজার এলাকার বিল্লাল হোসেনের ছেলে মো. মামুন (২৬), ফতুল্লা রেলস্টেশন এলাকার বাচ্চু মিয়ার ছেলে ওমর ফারুক (৩৮), রামারবাগ এলাকার ইমান তৌফিকের ছেলে ইমান ইমন (২৬), কোতালেরবাগ এলাকার মৃত লিয়াকত হোসেনের ছেলে শাহিন আহম্মেদ এবং কায়েমপুর এলাকার আক্তারুজ্জামানের ছেলে আতিকুর রহমান (২৫)। বিকালে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

এ ছাড়া মামলার আসামিদের মধ্যে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোস্তফা কামাল (৪৮), সদস্য মজিবর রহমান (৪৬), জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি টিপু সুলতান (৪০), যুবলীগ নেতা আজমত আলী (৪৫), মোফাজ্জল হোসেন চুন্নু (৪৫) ও রাকিব হোসেনের (২৮) নাম রয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, সরকার উৎখাতসহ দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উসকানি দিয়ে বেতন বৃদ্ধির নামে বিভিন্ন গার্মেন্টস শিল্পের শ্রমিকদের সংগঠিত করেছেন। মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে কয়েকটি পোশাক কারখানার এক থেকে দেড় হাজার শ্রমিককে নিয়ে তারা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক অবরোধ করেন। আন্দোলনকারীরা সড়কে আগুন জ্বালিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বারবার তাদের নিবৃত করার চেষ্টা করা হলেও বাধা উপেক্ষা করে বিক্ষুব্ধ শ্রমিক ও তাদের উসকানিদাতারা পুলিশের দিকে ইটপাটকেল ছুড়ে মারলে দুজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে ৮৩ রাউন্ড টিয়ারশেল ছোড়ে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, ‌‘মঙ্গলবার বিকালে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় ফতুল্লা থানায় মামলা হয়েছে। ২১ জন নামীয় আসামিসহ অজ্ঞাত আরও এক থেকে দেড় হাজার জনকে মামলার আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ বলেন, ‘গ্রেফতার আসামিদের নারায়ণগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ড শুনানির জন্য আগামী ৯ নভেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।’

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে পুলিশের সঙ্গে পোশাকশ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে। এতে পুলিশসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।