গাজীপুর মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল (নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল) শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের মামলায় শিক্ষক আনোয়ার হোসেন খানকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে জরিমানা অনাদায়ে আসামির স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে প্রাপ্ত টাকা ভুক্তভোগী শিশুকে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু বকর সিদ্দিক এই রায় প্রদান করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আনোয়ার হোসেন অনুপস্থিত ছিল।
আসামি আনোয়ার হোসেন গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার শরীফপুর (ধানবাড়ী) এলাকার করিম খানের ছেলে। সে স্থানীয় আদর্শ শিশু কানন স্কুলের সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরি করতো।
মামলায় রায় ঘোষণাকালে আসামিপক্ষ থেকে বিচারকের কাছে সময়ের আবেদন করা হলেও আদালত নামঞ্জুর করে সাজা ঘোষণা করে পরোয়ানা জারি করেন। আসামি আনোয়ার হোসেন খানকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আসামির স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে টাকা ভুক্তভোগীকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ৩১ আগস্ট সকাল পৌনে ৯টার দিকে ওই স্কুলের ৬ বছরের শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যায়। সকাল সোয়া ৯টার দিকে অন্য শিক্ষকরা ক্লাসে চলে গেলে শিক্ষক আনোয়ার হোসেন খান (২০) শিশু শিক্ষার্থীকে স্কুলের অফিস কক্ষে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। বেলা ১১টার দিকে শিশুটি বাসায় ফিরে তার মাকে বিষয়টি জানায়। ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিশুকে স্থানীয় ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে পরিবারের সদস্য ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে ২০১৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ভিকটিমের মা গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপির) গাছা থানায় হয়ে লিখিত এজাহার দেন। গাছা থানা পুলিশ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা নথিভুক্ত করে।
মামলায় মূল আসামি স্কুলের সহকারী শিক্ষক আনোয়ার হোসেন খান এবং ঘটনার সহযোগিতার অভিযোগে স্কুলের ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষিকা ফরিদা বেগমকে আসামি করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ ও শুনানি শেষে আদালত শিক্ষক আনোয়ার হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন। পলাতক আসামিকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে জারি করা সাজা পরোয়ানা ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় প্রেরণ করা হয়েছে।
গাজীপুর মহানগর আদালতের পরিদর্শক (কোর্ট ইন্সপেক্টর) আহসান উল্লাহ চৌধুরী বলেন, রায় প্রদানের সময় আসামি আনোয়ার হোসেন খান আদালতে অনুপস্থিত ছিল।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন গাজীপুর মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সেলিনা বেগম। তিনি মামলাটিতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন। শুনানিতে তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী মহিউদ্দিন ও জাকির কাদের।