নিহত সেনাসদস্যের বাড়িতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, বললেন ‘যেকোনো মূল্যে তাদের প্রতিহত করবো’

যেকোনো মূল্যে মানব পাচারকারীদের প্রতিহত করা হবে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। সারাদেশে এবং দেশের বাইরে অবস্থান করা মানব পাচারকারীদের কঠোরভাবে প্রতিহত করার জন্য সামাজিক যুদ্ধ এবং গ্রেফতারের জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। 

কক্সবাজারের টেকনাফের রঙ্গীখালী এলাকার গহীন পাহাড়ে যৌথ বাহিনীর অভিযানের সময় মানব পাচারকারীদের গুলিতে নিহত সেনাসদস্য তিতাস শেখের বাড়িতে গিয়ে এসব কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। শনিবার (০৭ অক্টোবর) বিকাল ৫টার দিকে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে নিহত তিতাসের বাড়িতে যান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এ সময় সমবেদনা জানিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। পরে নিহতের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করে দোয়া মোনাজাত করেছেন। 

পরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তিতাস শেখ সেনাবাহিনীর চৌকস সাহসী সৈনিক ছিলেন। মানব পাচারকারীদের গুলিতে আমরা তাকে হারিয়েছি। এই মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে যুদ্ধ শুরু করতে হবে। যেকোনো মূল্যে মানবপাচারকারীদের প্রতিহত করতে হবে। কারণ তারা দেশের শত্রু, জনগণের শত্রু।’ 

মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের যে অবস্থান তা অত্যন্ত দৃঢ়। তাদের শনাক্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমরা সর্বদা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে গভীরভাবে কাজ করে যাচ্ছি। কারণ মানব পাচারকারী সিন্ডিকেট শুধু এক জায়গায় নয়, দেশে-বিদেশে সব জায়গায় কাজ করে থাকে। যেসব রুটে তারা বাংলাদেশ থেকে সাধারণ মানুষকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, সেসব দেশের সরকার, পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করে যাচ্ছি। কীভাবে এই মানব পাচারকারীদের আইনের আওতায় আনা যায় এবং কঠোরতম সাজা দেওয়া যায়, সে বিষয়ে কথা বলছি।’

এ ছাড়া সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুরসহ ১৪টি জেলার ডিসিদের সঙ্গে মানব পাচার সংক্রান্ত সভা করা হয়েছে বলেও জানান শামা ওবায়েদ। সেখানে দালাল চক্রের বিরুদ্ধে ওয়ার্ড থেকে উপজেলা পর্যায়ে সচেতনতা করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ ছাড়া ডিসি-ইউএনওদের দালাল চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা যেন লোকাল প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করে দালাল চক্রকে গ্রেফতার করে। এ ছাড়া বিদেশে যারা নিখোঁজ ও জিম্মি বা আটক রয়েছে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। 

শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনাকালে উপস্থিত ছিলেন নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিন, নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসুল সামদানী আজাদ, নিহতের মামা ও লস্করদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদার।

গত বৃহস্পতিবার বিকালে কক্সবাজারের টেকনাফে গহীন পাহাড়ে অভিযানকালে মানব পাচারকারীদের গুলিতে নিহত হোন সেনাসদস্য তিতাস শেখ (২৮)। তিনি ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামের বাসিন্দা আফজাল শেখের ছেল। পরিবারের তিন ভাইবোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন। ২০১৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগদান করেন তিতাস শেখ। তিনি সেনাবাহিনীর ১ বীর ইউনিটের সদস্য হিসেবে টেকনাফের রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন।