পাসপারমিট বন্ধ: শরণখোলায় ২৫ হাজার জেলে পরিবারে হাহাকার

গত ২ মাস ধরে সুন্দরবনে পাসপারমিট বন্ধ থাকায় বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার প্রায় ২৫ হাজার জেলে পরিবারে হাহাকার চলছে। সম্প্রতি সুন্দরবনের ধানসাগর স্টেশন এলাকায় চারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর পাস পারমিট বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ফলে জেলেরা পরিবার পরিজন নিয়ে প্রায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী ওইসব জেলে পরিবারে এবার ঈদ উৎসব হওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

এ অবস্থার মধ্যে দরিদ্র ও অসহায় জেলেরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই সুন্দরবনে যেতে শুরু করেছেন। পাসপারমিটসহ ৬ দফা দাবিতে আন্দোলন করছেন তারা।

জেলে সোবাহান হাওলাদার বলেন, সুন্দরবনে অগ্নিকাণ্ডে জড়িত কয়েকজন আগুন সন্ত্রাসীর কারণে হাজার হাজার জেলে বেকার হয়ে পড়েছেন। তাদের অপরাধের দায়ভার নিরীহ জেলেদের বহন করতে হচ্ছে। জেলে পরিবারে মারাত্মক হাহাকার শুরু হয়েছে। কোনও জেলের ঘরে খাবার নেই। অনেকে পেটের দায়ে এলাকা ছেড়ে শহরে গিয়ে রিকশা চালাচ্ছেন, দিনমজুরি করছেন। অর্থাভাবে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, যারা সুন্দরবন ধ্বংসের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। আর জেলেদের দুর্দশার কথা চিন্তা করে দ্রুত পাস-পারমিট খুলে দেওয়া হোক।

জেলেদের ৬ দফা দাবি হলো- দ্রুত পাসপারমিট চালু, জাটকা মৌসুমে জেলেদের চালের পরিমান বৃদ্ধি ও প্রতিমাসে নগদ দুই হাজার টাকা সহায়তা, স্মার্ট পেট্রোলিং অভিযান স্থায়ীকরণ, জেলেদের বিনা সুদে ঋণ প্রদান, জেলেদের পুনর্বাসন ও ভূমিহীন জেলেদের সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত দেওয়া।

সুন্দরবন সুরক্ষা পরিষদের আহবায়ক নজরুল ইসলাম আকন বলেন, অচিরেই সুন্দরবনের পারসপারমিট খুলে দেওয়া না হলে পেশাজীবীরা পেটের দায়ে অবৈধ পথ বেছে নেবে। এলাকায় অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে। সুন্দরবন আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

মৎস্যজীবী নেতা সোলায়মান ফরাজী বলেন, চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় দুমাস সুন্দরবনের পাসপারমিট বন্ধ থাকায় এলাকার অর্থনীতিতেও বিরূপ প্রভাব পড়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যেও মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। এ উপজেলার সব মানুষই সুন্দবনের ওপর নির্ভরশীল। তাই পাসপারমিট বন্ধ থাকার কারণে স্বাভাবিকভাবেই তাদের সবকিছুই অচল হয়ে পড়েছে।

এ সময় তিনি সুন্দরবন রক্ষায় সরকার একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি করে শিগগির পাসপারমিট চালু করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

 /এসএনএইচ/টিএন/