ভরা মৌসুমে ইলিশের দেখা না পেয়ে হতাশ জেলেরা

ইলিশ মাছভরা মৌসুমে সাগরে ইলিশের দেখা না পেয়ে হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন বাগেরহাটের জেলেরা। প্রতিদিন মাছ ধরার ট্রলার নিয়ে জেলেরা সাগরে গেলেও ইলিশের দেখা পাচ্ছেন না। ফলে অলস সময় পার করছেন আড়তদাররাও।

এ অবস্থায় জেলে, মৎস্য ব্যবসায়ী, আড়তদারসহ সংশ্লিষ্ট মৎস্য শ্রমিকরা পড়েছেন চরম বিপাকে। মহাজনের ঋণ পরিশোধ করা নিয়েও বাড়ছে অনিশ্চয়তা। বাগেরহাটের প্রায় ৩০ হাজার জেলে ইলিশ ধরা বেচাসহ সংশ্লিষ্ট কাজে জড়িত।

জানা গেছে, ইলিশের এই ভরা মৌসুমেও বাগেরহাটের ইলিশের প্রধান মোকাম শহর রক্ষা বাঁধ রোডে অবস্থিত কেবি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে মাছ নেই। অথচ গত বছরও আষাঢ় মাস থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত ইলিশের আমদানি ছিল প্রচুর। সাগর থেকে প্রতিদিন ইলিশ নিয়ে ১৫/২০টি ট্রলার ভিড়তো এ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে। কেবি বাজারের আড়তগুলো ইলিশের পাহাড় হয়ে যেত। এ মোকামের বাইরেও ফেরি করে বিক্রি হয়েছে ইলিশ। কোনও কোনও মাছ বিক্রেতা বাড়ি বাড়ি গিয়েও ফেরি করে বিক্রি করেছে সেসব মাছ।

বাগেরহাট কেবি বাজারে সাগর থেকে ফিরে জেলে সালাম ও আক্কাস বলেন, নদীতে ইলিশ মাছ ধরা না পরায় মহা বিপদে পড়েছেন তারা। দিন-রাত নদীতে জাল ফেলে যে মাছ শিকার করেছেন তা দিয়ে ট্রলারের তেলের খরচও উঠছে না।

উপকূলীয় মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি শেখ ইদ্রিস বলেন, ইলিশের ভরা মৌসুমেও সাগরে ইলিশের দেখা মিলছে না। সাগর থেকে অসংখ্য মাছ ধরা ট্রলার ইলিশ না পেয়ে ফিরে আসছে। ধারণা করা হচ্ছে আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে সাগরে ইলিশের দেখা মিলছে না। যে কারণে জেলেরা খেয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। গত এক সপ্তাহে সাগর থেকে মাত্র ৫-৭ টি  ট্রলার কেবি বাজারে ফিরেছে। যাতে মাত্র পাঁচ পিস ইলিশ মাছ পাওয়া গেছে। এতে তাদের যাতায়াত খরচও ওঠেনি। ইলিশের এই ভরা মৌসুমেও এখন অনেকের ঘরের চুলা জ্বলছে না। সামনে ঈদ কিভাবে ছেলে-মেয়েদের নতুন কাপড় কিনবেন তা নিয়েও রয়েছেন দুঃচিন্তায়।

আরও পড়ুন:

ভারত ফিরছে সনু

রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় প্রিমিয়াম প্লাজায় আগুন

 

/বিটি/