চৌগাছায় থানার সামনের একটি বাসায় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ডাকাতদের ছুরিকাঘাতে আহত ওই বাসার গৃহকর্তা জাহাঙ্গীর আলম (৪০) মারা গেছেন।
বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে জাহাঙ্গীর মারা যান। যশোরের চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নার্গীস পারভীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, বুধবার দিবাগত গভীররাতে সেহরী খাওয়ার সময় ১০/১২ জনের একদল ডাকাত চৌগাছা থানার গেটের সামনে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার জাহাঙ্গীর আলমের বাড়ির কলাপসিবল গেটের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা নিচতলার ভাড়াটিয়া উপজেলা পল্লী বিদ্যুতের লাইনম্যান দিলীপের বাসার দরজা কৌশলে খুলে ফেলে তার স্ত্রী কনিকা ও মেয়েকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ দশ হাজার টাকা ও চল্লিশ হাজার টাকা মূল্যের সোনার গহনা নিয়ে নেয়। পরে ডাকাতরা কনিকাকে দিয়ে পাশের ফ্লাটের ভাড়াটিয়া পল্লীবিদ্যুতের লাইনম্যান রেজাউলকে ডেকে তোলে। ডাকাতরা রেজাউল ও তার স্ত্রীকে জিম্মি করে নগদ ৫০ হাজার টাকা ও ৬০ হাজার টাকা মূল্যমানের সোনার গহনা ছিনিয়ে নেয়।
ডাকাতরা রেজাউলের স্ত্রীকে দিয়ে বাড়ির দোতলায় জাহাঙ্গীরের বাসার দরাজা খোলায়। কিন্তু জাহাঙ্গীর দরজা খুলেই ডাকাতদের দেখতে পেয়ে চিৎকার দেন। সঙ্গে সঙ্গে ডাকাতরা জাহাঙ্গীরের মাথায়, বুকে ও পেটে ছুরি দিয়ে আঘাত করে মারাত্মক জখম করে। এ সময় তার স্ত্রী এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাহত করা হয়।
তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে ডাকাতরা কয়েকটি বোমা ফাটিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে আহত জাহাঙ্গীরকে প্রথমে চৌগাছা হাসপাতালে পরে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় নেওয়া পথে জাহাঙ্গীরের মৃত্যু হয়।
চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মসিউর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
/এসএনএইচ/টিএন/
আরও পড়তে পারেন : প্রথম আলো ও মানবজমিন প্রতিনিধিকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন