কুষ্টিয়ায় সোলার প্ল্যান্ট (সৌরবিদ্যুৎ) স্থানীয় কৃষকদের অনেক দুশ্চিন্তাই দূর করে দিয়েছে। এখন আর লোডশেডিংয়ের ভয় নেই তাদের। পড়তে হয় না লো-ভোল্টেজের বিড়ম্বনায়। নির্ভরশীলতা কমেছে জ্বালানী তেলের ওপর থেকেও।
সেচের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে রহিম আফরোজ ফাউন্ডেশন ও আরডিএফ সোলার ইরিগ্রেশন পাম্পিং সিস্টেমের উদ্যোগে জেলার বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হয়েছে সৌরবিদ্যুত চালিত ডিপ সেচ পাম্প পদ্ধতি। আগে মিরপুর উপজেলার নওদা আজমপুর ও বুরাপাড়া এলাকায় সেচের জন্য কৃষকরা বৈদ্যুতিক মোটর ও শ্যালো ইঞ্জিন ব্যবহার করতো। ফলে আবাদের খরচ বেশি পড়তো। অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত সেচের অভাবে অনেক জমি অনাবাদী থাকতো। কিন্তু এখন আর এসব সমস্যা নেই বললেই চলে।
নওদা আজমপুর ও বুরাপাড়া মাঠে স্থাপন করা হয়েছে ২টি সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প। এ অঞ্চলে এখন প্রায় ৫০০ একর ফসলি জমিতে পানি সরবরাহ করছে এই পাম্প।
মিরপুর উপজেলার নওদা আজমপুর এলাকার কৃষক আব্দুল হান্নান জানান, এবার তিনি ধানের আবাদ করেছেন সৌর বিদ্যুতের সহায়তায়। এখন সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে সময়মতো জমিতে সেচ দেওয়া যায়। খরচও বেশি পড়ে না। আগে যে জমিতে বছরে একবার ফসল হতো; এখন সে জমিতে তিনবার ফসল চাষ করা যায় বলেও জানান তিনি।
শুধু নওদা আজমপুর মাঠেই নয়, উপজেলার চিথলিয়া মাঠে তিনটি ও নওয়াপাড়া মাঠে একটি সৌরবিদ্যুৎ সেচ প্রকল্প চালু হয়েছে। এতে একদিকে যেমন বিঘা প্রতি সেচ খরচ দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা কমেছে; তেমনি সময়মতো পর্যাপ্ত পানিও পাওয়া যাচ্ছে।
মিরপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রমেশ চন্দ্র ঘোষ জানান, রহিম আফরোজ ফাউন্ডেশন ও আরডিএফ সোলার ইরিগ্রেশন পাম্পিং সিস্টেমে এ ধরনের সৌরবিদ্যুৎ সেচ প্রকল্প চালু করেছে। এ প্রকল্পে খরচ অনেক কম। সারা বছরই সেচ কাজ চালানো যায় এবং এটা পরিবেশবান্ধব।
আমলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনোয়ার আলী মালিথা জানান, মাঠে মাঠে এ ধরনের সৌর বিদ্যুৎ পাম্পের ফলে কৃষকদের সেচ কাজ করতে সুবিধা হচ্ছে। তারা এখন আর বিদ্যুতের উপর নির্ভরশীল নয়।
আরও পড়ুন: চাঁপাইনবাবগঞ্জে ককটেল ও গান পাউডারসহ ২১ জামায়াত-শিবির কর্মী আটক
/এআরএল/এআর/