ভারতে বন্যার পানি সরানোর জন্য ফারাক্কা বাঁধের গেট খুলে দেওয়ার পর থেকে পদ্মায় অস্বাভাবিকভাবে পানি বাড়তে থাকে। এর ফলে দৌলতপুর উপজেলার চিলমারি ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৩৫টি ও ভেড়ামারা উপজেলার দুটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে আছে ৬০ হাজার মানুষ। বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। এদিকে, পদ্মার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর প্রধান শাখা গড়াই নদীতেও অব্যাহতভাবে পানি বাড়ছে।
কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী নৈমূল হক জানান, কুষ্টিয়ায় পদ্মা নদীতে পানির বিপদসীমা হচ্ছে ১৪ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার। সেখানে শনিবার সকাল ৯টায় পানি প্রবাহিত হচ্ছে ১৪ দশমিক ১৩ সেন্টিমিটার। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পানি প্রবাহিত হয়েছিল ১৪ দশমিক ৯ সেন্টিমিটার। ২৫ আগস্ট ছিল ১৩ দশমিক ৯০ সেন্টিমিটার।
তিনি বলেন, পানির মাপ পর্যবেক্ষণ করার জন্য কুষ্টিয়ায় একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। প্রতি তিন ঘণ্টা পর পর পানির মাপ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড সতর্ক রয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
পদ্মার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর প্রধান শাখা গড়াই নদীতেও পানি বেড়ে গেছে। ফলে গড়াই নদীর তীরবর্তী হাটশ হরিপুর গ্রামে বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এদিকে, শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত পদ্মার পানিতে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা চিলমারি ও রামকৃঞ্চপুর ইউনিয়নের ৩৫টি ও ভেড়ামারা উপজেলার দুটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান জানান, তার ইউনিয়নের ঢাকাপাড়া গ্রামের চরটি তলিয়ে গেছে। সেখানে ১৫০ পরিবার বসবাস করতো তারা অন্যত্র আশ্রয় নিচ্ছে। এছাড়া গোলাপনগর এলাকার ৭৫ ভাগ প্লাবিত হয়েছে।
ভেড়ামারার মোকারিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার বাবুল আকতার জানান, ফারাক্কা বাঁধের গেট খুলে দেওয়ায় পদ্মা ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। ইতিমধ্যে চর ঢাকাপাড়া, সলেমানীর চর এবং চর গোলাপনগর তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি মানুষের অভিযোগ, শুক্রবার সকাল থেকে তারা পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। ঘরের সব কিছুই পানিতে তলিয়ে গেছে। নষ্ট হয়ে গেছে ঘরে রাখা সব ফসল। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও দুর্গত এলাকায় এসে কেউ খোঁজ খবর নেয়নি। এসব এলাকায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। দৌলতপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন জানান, চিলমারী ইউনিয়নের ১৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুজিব উল ফেরদৌস জানান, তাৎক্ষনিক চিলমারি ইউনিয়নে ছয় টন চাল দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আমাদের পর্যাপ্ত ত্রাণ প্রস্তুত আছে। প্রয়োজনে আরও ত্রাণ সরবরাহ করা হবে।
আরও পড়ুন:
গুলশান হামলার মাস্টারমাইন্ড তামিম চৌধুরীসহ তিন জঙ্গি নিহত (ভিডিও)
/বিটি/