মাগুরা সদর উপজেলার কৃষক রমেশ শীল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের কাছ থেকে যে পাট ১৩০০ টাকা মণে দালালরা কিনছে বিজেএমসির ক্রয়কেন্দ্রে তারা তা ১৮০০ টাকা দরে বিক্রি করছে। আমাদের প্রাপ্য লাভ তাদের পকেটে চলে যাচ্ছে।’
মহম্মদপুর উপজেলার কৃষক বদি শেখ বলেন, ‘প্রতি বছর উৎপাদন ব্যয় বেড়েই চলেছে অথচ বিক্রয়মূল্য দিনে দিনে কমে যাচ্ছে। এরকম হলে আমরা কিভাবে পাট চাষ করব?’
মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, এবছর মাগুরায় ৪১০১০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার পাটের ফলন হয়েছে ৪,৫০,৫৮০ বেল যা লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। কৃষকের অভিযোগ, সাধারণত প্রতি মণ পাটের মূল্য কমপক্ষে ২১০০ টাকা হলেও বর্তমানে তা ১৩০০ থেকে ১৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মধ্যসত্ত্বভোগী দালালরা বাজার নিয়ন্ত্রণ করায় কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ জুট মিল কর্পোরেশন (বিজেএমসি) কর্তৃক মাগুরায় দুটি পাট ক্রয়কেন্দ্র খোলা হলেও তাদের মতে, পাট ক্রয়ের জন্য বরাদ্দ কম। এ অবস্থায় কৃষকেরা সরাসরি ক্রয়কেন্দ্রে পাট বিক্রি করতে গিয়ে নগদ টাকা না পেয়ে ফিরে আসছেন। আর এ সুযোগটি নিচ্ছে স্থানীয় দালাল সিন্ডিকেট। তারা নগদ টাকা দিয়ে অভাবী কৃষকের কাছ থেকে স্বল্পমূল্যে পাট কিনে নিচ্ছে।
মাগুরা নতুন বাজার এলাকার পাট ব্যবসায়ী উদয় সাহা সিন্ডিকেটের কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘হতে পারে পাটের বাজার দর ২১০০ টাকা মণ। আমরা নগদ টাকায় পাট ক্রয় করছি বটে, তবে তা নগদ অর্থে বিজেএমসিতে বিক্রি করতে পারছি না।
তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘পাট যদি গুদামে ফেলে রাখতে হয়, তবে তা কি করে ২১০০ টাকায় কিনব?’
মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের একজন কর্মকর্তা নওয়াবুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পাটের মূল্য বাজারে একটু কম এ কথা ঠিক। যেহেতু এবার বাম্পার ফলন হয়েছে কৃষক কোনওভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।
/ এইচকে/