ভারত থেকে পণ্য নিয়ে আসা কয়েকজন ট্রাক-চালক জানান, ভোররাত থেকেই শুরু হয় চাঁদাবাজি। হলুদ ট্যাক্সি নিয়ে পেট্রাপোল সীমান্ত থেকে যেসব যাত্রী কলকাতার দিকে যাতায়াত করে, তারাই বেশি চাঁদাবাজির শিকার হয়। ওই ট্যাক্সিগুলো কলকাতার। তবে অনেক যাত্রীই বাংলাদেশের।
ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানান, বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে প্রবেশের পর থেকে চাঁদাবাজি শুরু হয়। ভারতের কাস্টমসের অনেক কর্মকর্তা পাসপোর্টধারীদের কাছ থেকে ইচ্ছামতো অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। অর্থ না দিলে বসিয়ে রাখছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এ ছাড়া কলকাতা যাওয়ার পথে হরিদাসপুর, মতিগঞ্জ, বনগাঁ, হাবরা, অশোকনগর, বারাসাতসহ অন্তত ১৫-২০টি স্পটে ব্যারিকেড দিয়ে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। চাঁদাবাজি হচ্ছে রেল স্টেশনেও। বিভিন্ন ক্লাব বা সংঘের ব্যানারে চলছে এই চাঁদাবাজি। এর একটা অংশ পুলিশও পায়। কারণ, পুলিশের সামনেই চলে এই চাঁদাবাজি। চাঁদাবাজরা রশিদ ধরিয়ে দিয়ে বলছে, ‘এই রশিদ নিয়ে থানায় গিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। পুলিশ আমাদের কিছুই করতে পারবে না।’
ভারত থেকে ঘুরে আসা খুলনার মিজানুর রহমান বলেন, ‘হরিদাসপুর, মতিগঞ্জ, বনগাঁ থানার কালুপুর বাজার, হাবড়া, মালোপাড়ার মোড়, গাইঘাটা থানার চাঁদপাড়া বাজার, নহাটা মোড়, গাইঘাটা থানার মোড়, গাইঘাটা থানার বাজার, গাইঘাটা পেট্রোল পাম্প, বারাসাত, অশোকনগর পর্যন্ত যাওয়ার পথে অন্তত দশ জায়গায় পূজার নামে চাঁদা তোলা হচ্ছে।’
ঢাকার লালবাগের বাবলু রহমান বলেন, ‘ওপারে তিনজনকে পাঁচ হাজার টাকা পূজার চাঁদা দিতে হয়েছ।’ সোহাগ পরিবহনের পাসপোর্টধারী যাত্রী অচিন্ত্য কুমার ও জাহানারা বলেন, পূজার চাঁদা দেওয়ার পর বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়েছে কাস্টমস অফিসে। সেখানে ঘুষ দিলে সাতখুন মাফ। না দিলে শুরু হয় হয়রানি।
চিকিৎসার জন্যে ভারতে যাওয়া রাজধানীর উত্তরার কামাল হোসেন বলেন, ‘হরিদাসপুর এসে দালাল ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের দুর্ব্যবহারে বিড়ম্বনার মধ্যে পড়েছিলাম। তারা আমার কাছ থেকে দুই হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছে।’
ওপারের চেকপোস্টের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচ্ছন্ন ছায়াতেই চাঁদাবাজি চলছে। চাঁদাবাজির ধরন দেখে মনে হয়, পূজার খরচের একটা অংশ বাংলাদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে নেওয়া হবে।’
বেনাপোল চেকপোস্ট আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের কর্মকর্তা সুপার আজাদ হাজারী বলেন, ‘বাংলাদেশি যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয় বলে শুনেছি। কিন্ত আমাদের কাছে কোনও যাত্রী লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে ভারতীয় কাস্টমসকে বিষয়টি জানাতে পারি।’
/এআরএল/