ঝালকাঠির দুই বিচারক হত্যা মামলা: আরিফের ফাঁসি রবিবার রাতে

খুলনাঝালকাঠিতে দুই বিচারক জগন্নাথ পাঁড়ে ও  সোহেল আহমেদ হত্যা মামলার অবশিষ্ট আসামি জেএমবি নেতা আসাদুল ইসলাম আরিফের ফাঁসি রবিবার রাতে খুলনা কারাগারে কার্যকর করা হবে। এই মামলার রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৭ জনের মধ্যে ৬ জনের ফাঁসি ইতোমধ্যেই কার্যকর করা হয়েছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) মুখপত্র ও বিশেষ শাখার এডিসি শেখ মনিরুজ্জামান খান মিঠু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রবিবার সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টার মধ্যেই ফাঁসি কার্যকর করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে খুলনা কারাগার কর্তৃপক্ষ। পুলিশ কারাগার এলাকার নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টি নজরদারি করছে। তিনি জানান, আসাদুল ইসলাম আরিফ নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবি নেতা।

খুলনা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক কামরুল ইসলাম  বলেন, ‘ঝালকাঠির দুই বিচারক হত্যা মামলার ফাঁসির আসামি আরিফ খুলনা কারাগারে রয়েছে। তার ফাঁসি কার্যকর করার বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা পেয়ে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে রবিবার বেলা ১টার পর সাংবাদিকদের বিস্তারিত তথ্য দেওয়া সম্ভব হবে।’

খুলনা জেলা কারাগারের জেলার জান্নাতুল ফরহাদ বলেন, ‘এই আসামির ফাঁসি ১৭ অক্টোবরের মধ্যে কার্যকর করতে হবে। সে লক্ষ্যেই কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে, ফাঁসি সাধারণত সময় শেষ হওয়ার একদিন আগেই কার্যকর করা হয়। তাই ১৬ অক্টোবর ফাঁসি কার্যকর করতে হবে। এ ক্ষেত্রে একদিন হাতে রাখা হয়। এ ব্যাপারে এখনই বিস্তারিত তথ্য জানানোর সুযোগ নেই।’

উল্লেখ্য, উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের ১৪ নভেম্বর সকালে ঝালকাঠি জেলা জজ আদালতে যাওয়ার পথে দুই বিচারককে বহনকারী মাইক্রোবাসে বোমা হামলা হয়। এর ফলে বিচারক জগন্নাথ পাঁড়ে ও সোহেল আহমেদ নিহত হন। এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার শুনানি শেষে ২০০৬ সালের ২৯  মে দুই বিচারক হত্যা মামলার রায়ে ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ রেজা তারিক আহম্মেদ জেএমবির ৭ জনের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন।

২০০৭ সালের ২৯ মার্চ জেএমবির শীর্ষ নেতা শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলাভাই, শায়খ আব্দুর রহমানের  ভাই আতাউর রহমান সানি, জামাতা আবদুল আউয়াল, ইফতেখার হোসেন মামুন, খালেদ সাইফুল্লাহ ওরফে ফারুকের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। অবশিষ্ট ফাঁসির আসামি আরিফ ২০০৮ সাল থেকে খুলনা জেলা কারাগারে রয়েছে।

আরও পড়ুন- 


নার্গিসের জবানবন্দির নামে কালক্ষেপণ পুলিশের!

/এফএস/