বুধবার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (তৃতীয়) এর আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বিচারক মো. আশরাফ আলী তাদের আগাম জামিন দেন।
গত ১২ নভেম্বর দিনগত রাতে স্থানীয় ফয়লা গোরস্থান পাড়ার শেখ আব্দুল মালেকের ছেলে মাজেদুল ইসলামের বাড়িতে আসবাবপত্র ভাঙচুর, স্বর্ণলংকার ও টাকা পয়সা লুটপাটের একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে দুই সাংবাদিকসহ চার জনের নাম উল্লেখ্য ও অজ্ঞাত ৭/৮ জনকে আসামি করা হয়।
যে কারণে সাংবাদিকদের নামে মামলা
স্থানীয় প্রভাবশালী এক পরিবারের এক মেয়ের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ২৮ অক্টোবর রাতে পাইকপাড়া গ্রামের শ্বশুরবাড়ি থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিষয়ের শেষ বর্ষের ছাত্র জাহাঙ্গীর আলমকে আটক করেন থানার এএসআই তৌহিদুর রহমান। পরে তাকে থানা হেফাজতে চোখ বেঁধে নির্যাতন করা হয়। অথচ ওই ঘটনায় জাহাঙ্গীর আদৌও জড়িত ছিলেন না বলে অভিযোগ করেন তার পিতা হকার মিরাজ।
এ ঘটনায় খবর বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত হলে রাজনৈতিক নেতাদের কাছে দৌড়-ঝাপ শুরু করেন দারোগা তৌহিদ। পরে ওই ছাত্রের কাছে মোবাইল ফোনে ক্ষমা চেয়ে এবং তার পিতা হকার মিরাজের কাছে ঘুষের টাকা ফেরত দেন দারোগা। ওই খবরও বিভিন্ন অনলাইনে প্রকাশিত হয় এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এএসআই তৌহিদকে শাস্তিমূলক বদলি করেন।
এর প্রতিক্রিয়ায় থানার ওসি ও স্থানীয় কিছু একটি গোষ্ঠী তাদের শায়েস্তা করতে মিথ্যা মামলা দায়ের করে বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিক নয়ন খন্দকার ও আরিফ মোল্লা। তারা জানান, মামলা দায়েরের সময় কালীগঞ্জ থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, ‘পুলিশের বিরুদ্ধে খবর লিখিস, এবার তোদের দেখে নেবো।’
এ ঘটনার কয়েকদিন পর বিদ্যুৎ অফিসের কর্মচারী টিপু সুলতানের মেয়েকে উঠিয়ে নিয়ে যায় ফয়লা গোরস্থান পাড়ার জিহাদ নামের এক যুবক। মেয়েটি তার বাড়িতেই রেখে দেয়। এ ঘটনায় টিপু সুলতান ঝিনাইদহ ডিবি অফিসে অভিযোগ দিলে ডিবি পুলিশ গত ১২ নভেম্বর বিকেলে সেখানে অভিযান চালিয়ে মেয়েটি উদ্ধার করে টিপু সুলতানের জিম্মায় দেয়। এই ঘটনায় জিহাদের ভাই মাজেদুল বাদি হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন এবং পুলিশ এই মামলায়ও সাংবাদিক নয়ন খন্দকার ও আরিফ মোল্লাকে আসামি করে। অথচ ঘটনার সঙ্গে আদৌও তারা জাড়িত নন বলে দাবি করেছেন দুই সাংবাদিক।
এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ওই পরিবারের লোকজন থানায় এসে আপনাদের (দুই সাংবাদিকের কথা) কথা বলেছে। আপনারা তাদের বাড়ি-ঘর ভাঙচুর ও মারধর করেছেন। তাই মামলা নিয়েছি।’
আরও পড়ুন-
শৃঙ্খলা না মানলে দলে থাকার দরকার নেই: ওবায়দুল কাদের
/এফএস/টিএন/