নিহত গৌতম মণ্ডল মহাদেবনগর গ্রামের ইউপি সদস্য গনেশ মণ্ডলের ছেলে ও সীমান্ত আদর্শ কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র।
এদিকে এই ঘটনায় শনিবার সকালেই উত্তেজিত জনতা সন্দেহভাজন অপহরণকারী নুর ইসলাম ও রেজাউল শেখের বাড়ি আগুন লাগিয়ে জ্বালিয়ে দেয়।
নিহতের পিতা গনেশ মণ্ডল জানান, গত ১৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় গৌতম ও তার বন্ধুরা বাড়ির পাশে মহাদেবনগর মোড়ে আমিন মিস্ত্রির দোকানে বসে টিভিতে ফুটবল খেলা দেখছিল। এসময় গৌতমের কাছে একটি ফোন আসে। ফোনে তাকে কারা যেন ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে গৌতমের দুটি মোবাইল ফোন নম্বর আর খোলা পাওয়া যায়নি। রাতে তাকে ছেলের মোবাইল থেকে ফোন করে বলা হয়, ‘তোর ছেলেকে পেতে চাইলে দশ লাখ টাকা নিয়ে চলে আয়। তবে পুলিশ বা অন্য কাউকে জানালেই বিপদ হবে।’
গণেশ মণ্ডল আরও জানান, বিষয়টি তিনি ঘোনা ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান ও সাতক্ষীরা সদর থানার ওসিকে জানিয়ে তাদের সহায়তা চেয়েছিলেন। পরে সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল কালামকে সঙ্গে নিয়ে অপহরণকারীদের কথা মতো ১৪ ডিসেম্বর গভীর রাতে কয়েক লাখ টাকা নিয়ে গিয়েছিলেন। এক পর্যায়ে অন্য সব লোককে সেখান থেকে সরে যেতে বলে অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, টাকা নিয়ে ওই স্থান থেকে চলে যেতে। পরে টাকা বিকাশে পাঠাতে বলা হয়।
তিনি জানান, এর পরপরই সেখানে তিন যুবক হাজির হয়। ওই সময় পুলিশ গ্রামবাসীর সহায়তায় তাদেরকে আটক করে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ছয়টি মোবাইল।
গনেশ মণ্ডল জানান, আটক তিনজনের মধ্যে ভাড়ুখালি গ্রামের করিম মোড়লের ছেলে শাহাদাত মোড়ল মোবাইলে তার সঙ্গে ছেলের অপহরণ বিষয়ক কথা বলেছিল বলে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন।
এরপর শনিবার সকালে (১৭ ডিসেম্বর) নিজেদের বাড়ির পাশের একটি পুকুরে পাওয়া যায় অপহৃত গৌতমের মরদেহ।
সাতক্ষীরা সদর থানার এসআই আবুল কালাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
আটককৃতরা হলেন- শাহাদাত হোসেন, শাওন, সাজু, মহসিন ও নাজমুল। নাজমুলের স্বীকারোক্তিতে গৌতমের লাশ উদ্ধার করা হয়। মামলায় কবিরুল ইসলাম নামের আরও একজনের নাম আছে। তাকে ধরা যায়নি।
হাতিরঝিলে ওয়াটার ট্যাক্সিতে প্রতিদিন সেবা পাবেন আট হাজার যাত্রী
/এফএস/