কুষ্টিয়ায় জমে উঠেছে জেলা পরিষদ নির্বাচন

কুষ্টিয়ায় জমে উঠেছে জেলা পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচন ঘিরে শুরু হয়েছে ভোটের আমেজ। সম্প্রতি হাইকোর্টের রায়ে জাসদ মনোনীত প্রার্থী নির্বাচনের মাঠে ফিরে আসায় ক্ষমতাসীন মহাজোটের দুই নেতার মধ্যে প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ণ নির্বাচনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এ জেলার হেভিওয়েট দুই প্রার্থী হলেন- কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি রবিউল ইসলাম এবং কুষ্টিয়া জেলা জাসদের সভাপতি গোলাম মহসিন।

আ.লীগের প্রার্থী রবিউল ইসলাম ও জাসদের প্রার্থী গোলাম মহসিনগত (১৫ডিসেম্বর) বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের রায়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী গোলাম মহসিনের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় জেলা জুড়ে বইছে ভোটের হওয়া। ক্ষমতাসীন জোটের দুই শরিক দলের নেতারা ভোটের হিসাব মেলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। দুই দলের নেতারাই এই নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন।

কুষ্টিয়ার ৬ উপজেলার ৬৪টি ইউনিয়ন ও পাঁচটি পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলর, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারসহ এখানে সর্বমোট জনপ্রতিনিধি রয়েছেন ৯শ’ ৪৪ জন। সূত্রে জানা যায়, জেলা পরিষদ নির্বাচনে নয়শ’ ৪৪ জন জনপ্রতিনিধির মধ্যে বিএনপি সমর্থিত জনপ্রতিনিধি রয়েছে ১১০ থেকে ১২০ জন। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ সমর্থিত জনপ্রতিনিধি ৬০ থেকে ৭০ জন। এছাড়া অন্য দলের রয়েছে প্রায় ২০ জন জনপ্রতিনিধি রয়েছেন। বাকি সব জনপ্রতিনিধিই আওয়ামী লীগের।

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি রবিউল ইসলাম বলেন, ‘হাইকোর্ট আমাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের সুযোগ করে দিয়েছেন। জেলার উন্নয়নে বর্তমান সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। এসব কারণে ভোটাররা আমাকেই নির্বাচিত করবেন।’

জাসদ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী গোলাম মহসিন বলেন, ‘নির্বাচনে জয় নিশ্চিত জেনেই ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছিল। জেলা পরিষদের ঠিকাদারি লাইসেন্স অনেক পূর্বেই হস্তান্তর করা হলেও লাইসেন্সধারী হওয়ার খোঁড়া যুক্তি দেখিয়ে নির্বাচন কমিশন আমার প্রার্থিতা বাতিল করে দেন। এর বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলাম। অনেক লড়াই করে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছি। নির্বাচিত হলে কুষ্টিয়ার উন্নয়নে নিজেকে বিলিয়ে দেব।’

কুষ্টিয়া জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা নওয়াবুল ইসলাম বলেন, ‘কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দু’জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। বাছাইয়ে একজনের মনোনয়ন বাতিল হয়ে যাওয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগের কুষ্টিয়া জেলার সহ-সভাপতি রবিউল ইসলামকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছিলো। তবে বাতিলকৃত মনোনয়নধারী যদি আদালত কর্তৃক মনোনয়ন বহালের আদেশ পেয়ে থাকেন তাহলে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পূর্ব মুহূর্তে এলেও তা গণ্য করা হবে। একই সঙ্গে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত ঘোষণার ফলও বাতিল বলে গণ্য হবে।’

/এমও/