ব্রিটিশ শাসনামলে খুলনা ও কলকাতার মধ্যে সরাসরি যাত্রীবাহী ট্রেন চালু ছিল। কিন্তু ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের সময় এ ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
রেলওয়ের খুলনা স্টেশন মাস্টার কাজী আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনটি ৬ এপ্রিল বিকালে ঈশ্বরদী থেকে ৫টি কোচসহ খুলনায় আসে। ৭ এপ্রিল বিকাল থেকে ট্রেনটির সাজসজ্জা করা হয়। শনিবার সকাল সোয়া ৮ টায় খুলনা থেকে ট্রেনটি রওনা হয়েছে। সকাল পৌনে ১১টার দিকে এটি বেনাপোল পৌঁছেছে।
দুপুরে উদ্বোধনের পর ৩৯ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে বেনাপোল থেকে কলকাতা যাত্রা শুরু হবে ট্রেনের। পরীক্ষামূলক এ যাত্রায় কোনও সাধারণ যাত্রী থাকছে না। কেবল রেল মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, কাস্টমস, ইমিগ্রেশন ও রেলের পদস্থ কর্মকর্তারা থাকছেন। এই ট্রেনটি খুলনা, যশোর, বেনাপোল, পেট্রাপোল, বনগাঁ হয়ে কলকাতা চলাচল করবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লি থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দ্বিতীয় মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনটি উদ্বোধন করবেন। এ উপলক্ষে বেনাপোল রেল স্টেশনে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের রেলমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই দ্বিতীয় মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনের উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের পর রবিবার সকালে খুলনার উদ্দেশে ট্রেনটি কলকাতা থেকে ছেড়ে আসবে।
খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান হচ্ছে। ট্রেন সার্ভিসটি চালু হওয়ায় যাতায়াতের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের অনুকুল পরিবেশ তৈরি হবে।’
রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের সুবিধার্থে খুলনা-কলকাতা দ্বিতীয় মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন চালু করার সিদ্ধান্ নেয় সরকার। এর অংশ হিসেবে ২০১৬ সালের শেষে ভারতীয় রেলওয়ের একটি প্রতিনিধি দল খুলনায় এসে পরিদর্শন করাসহ সার্বিক পরিবেশ দেখেন এবং মৈত্রী ট্রেন চালানোর বিষয়ে একমত পোষণ করেন। জানা যায়, খুলনা-কলকাতার দূরত্ব প্রায় ২০০ কিলোমিটার।
/এফএস/
আরও পড়ুন-