মুক্তিপণ দিয়ে দেশে ফিরেছেন ওমানে পাচার হওয়া নারী

নারী পাচারচুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামের আকলিমা খাতুন ওমানে পাচার হওয়ার দীর্ঘ ৯ মাস পর মুক্তিপণের বিনিময়ে দেশে ফিরেছেন। গত বৃহস্পতিবার সকালে দেশে ফেরার পর শুক্রবার তাকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বুধবার সকালে হাসপাতালে শয্যারত অবস্থায় সাংবাদিকদের সামনে আকলিমা খাতুন পুরো ঘটনা তুলে ধরেন।
আকলিমা খাতুন জানান, গত ৯ মাস আগে প্রতিবেশী আজির বক্সের মেয়ে আসমা খাতুন ওমানে মোটা অঙ্কের বেতনের চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে ঢাকায় নিয়ে দালাল চক্রের সদস্য রিপন, জালাল ও দেলোয়ারের হাতে তুলে দেয়। এরপর বিমানযোগে তারা ওমানে পাঠায়। সেখানে যাওয়ার পর একটি ব্যারাকে ৩ দিন রাখার পর তাকে বিক্রি করে দেওয়া হয়। সেখানে দীর্ঘ সাড়ে ৬ মাস গৃহকর্তার নিপীড়নে অসুস্থ হয়ে পড়লে সেই ব্যক্তি দালাল চক্রের ব্যারাকে ফেরত দিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, তখন দেশে ফিরে আসতে চাইলে দালাল চক্র বলে, ‘তোমাকে ওরা আমাদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। বাংলাদেশি ৫ লাখ টাকা দিলে দেশে ফেরত পাঠানো হবে। না হলে আবার তোমাকে অন্য কোথাও বিক্রি করে দেওয়া হবে’। এরপর ফোনে বাড়ির সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে শেষ পর্যন্ত জমি বিক্রয় করে মুক্তিপণের ২ লাখ টাকা ওই প্রতিবেশী আসমার মাধ্যমে ঢাকা আদাবরে পৌঁছে দেয়। গত ২ মাস আগেই মুক্তিপণের টাকা পরিশোধ করা হলেও তারা আমাকে গত বৃহস্পতিবার ফেরত দেয়।

তিনি আরও বলেন, ‘বিমানে আমার পাশের সিটে থাকা এক ব্যক্তির সহযোগিতায় আমি বাড়ি ফিরি। আমি এতটাই অসুস্থ যে, আমার চলাফেরার মতো কোনও শক্তি নেই। ভিতরে সব ঘা হয়ে প্রতিনিয়ত অসহনীয় যন্ত্রণা সহ্য করতে হচ্ছে। আমি ওই প্রতারকদের পাল্লায় পড়ে শুধু টাকায় নষ্ট করিনি, আমাকে হারাতে হয়েছে সবকিছু। আসমাসহ ওই দালাল চক্রের সবার বিচার চাই। আমি চাই আমার মতো আর কোনও আকলিমা ওমানে যেয়ে এভাবে কেনাবেচার পণ্য না হয়।’

এদিকে, খবর পেয়ে গত মঙ্গলবার রাতে চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়ার ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জিপু হাসপাতালে অসুস্থ আকলিমাকে দেখতে যান ও তার চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন এবং ঔষুধ-পথ্য কিনে দেন।

এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোজাম্মেল হক জানান, আমি ঘটনাটি শুনেছি। এখনও এ ঘটনায় কোনও মামলা হয়নি,মামলা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/এমও/