খুলনার ক্রিসেন্ট জুট মিলের ২৬ শ্রমিক চাকরিচ্যুত

খুলনায় ক্রিসেন্ট জুট মিলে উৎপাদন শুরু করাকে কেন্দ্র করে সিবিএ নেতাদের ওপর বদলি শ্রমিকদের হামলা এবং বাড়ি-ঘর ভাঙচুরের ঘটনায় মিলের স্থায়ী-অস্থায়ী ২৬ শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। রবিবার রাতে মিল কর্তৃপক্ষ এ পদক্ষেপ নেন। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতিও নিচ্ছে মিল প্রশাসন।

ক্রিসেন্ট জুট মিল (ফাইল ছবি)ক্রিসেন্ট জুট মিলের প্রকল্প প্রধান আবুল কালাম হাজারী বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মিল চালু করতে গেলে অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে মিলে অরাজকতা সৃষ্টি করে। তারা সিবিএ’র দুই নেতার বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও শ্রম আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

এর আগে, রবিবার সকাল ৬ টায় সিবিএ নেতারা ক্রিসেন্ট জুট মিলে উৎপাদন শুরু করতে গেলে বদলি শ্রমিকদের একটি অংশ তাতে বাধা দেয়। এ সময় দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে সিবিএ’র কার্যকরী সদস্য আলম শরিফ মিলন, সাবেক সহ-সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেনসহ কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়।

কেএমপির খালিশপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আশরাফ হোসেন বলেন, ‘শ্রমিক সংঘর্ষ ঠেকাতে মিল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ক্রিসেন্ট জুট মিলের দু’নেতার বাড়িতে হামলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

উল্লেখ্য, ৮ সপ্তাহের বকেয়া মজুরি এককালীন পরিশোধের দাবিতে খুলনার ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম ও স্টার জুট মিলের শ্রমিকরা বুধবার থেকে আন্দোলনে নামেন। মিল চালু ও শ্রমিকদের চলমান আন্দোলন নিরসনে শনিবার রাতে খুলনা জেলা প্রশাসকের আহ্বানে সার্কিট হাউজে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ক্রিসেন্ট ও প্লাটিনাম জুট মিলে ৩ সপ্তাহের মজুরি প্রদান এবং আগামী দেড় মাসের মধ্যে সব বকেয়া পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু ক্রিসেন্ট জুট মিলের সিবিএ’র পক্ষ থেকে গেট সভার মাধ্যমে শ্রমিকদের কাজে যোগদানের আহ্বান জানালে স্থায়ী ও অস্থায়ী কিছু শ্রমিক মিলে প্রবেশ করতে অন্য শ্রমিকদের বাধা দেয়। এমনকি তারা লাঠিসোটা নিয়ে সিবিএ নেতাদের ধাওয়া করে। যার সূত্র ধরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।