পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে নতুন বিধিনিষেধের অভিযোগ যাত্রীদের

বেনাপোল-পেট্রাপোল গেট (ফাইলছবি)বাংলাদেশের বেনাপোল সীমান্তের ওপারে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের আসা-যাওয়ার ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করার অভিযোগ উঠেছে।  এতে বিপাকে পড়েছেন দুই দেশের যাত্রীরাই। এই পথে চলাচলকারী যাত্রীদের বরাত দিয়ে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর শরীফ এ তথ্য জানান।

বাংলাদেশি ও ভারতীয় যাত্রীদের অভিযোগ, গত বুধবার (১ নভেম্বর) থেকে অতিরিক্ত যাত্রীর ভিড় এর অজুহাত দেখিয়ে ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা পাসপোর্টধারী যাত্রীদেরও ফেরত পাঠাচ্ছেন। অথচ এ ব্যাপারে ভারতে কোনও সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি।   

মাল্টিপল ভিসার পাসপোর্টযাত্রী ভারতীয় নাগরিক নূরুল আমিন বাংলাদেশে এসে জানান, ভারতের ইমিগ্রেশন পুলিশ বলেছে, সপ্তাহে মাত্র একবার বাংলাদেশে যাওয়া যাবে। এর বেশি বাংলাদেশে প্রবেশ করা যাবে না। আর যাদের মাল্টিপল ট্যুরিস্ট ভিসা আছে তারা মাসে দুইবার বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারবেন।  

ঢাকার যাত্রী আমিনুর রহমান জানান, তার পাসপোর্ট নম্বর ‘বিপি 0028290’। তিনি শুক্রবার (০৩ অক্টোবর) সকালে বিজনেস ভিসায় পরিবারের পাঁচ সদস্যসহ ভারতে যান। সেখানকার পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের পাসপোর্টে ‘রিফিউজ’ সিল মেরে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়। সব কাজকর্ম শেষ করে ভারতে যাওয়ার পর সেখানকার ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা বলেন, বিজনেস ভিসায় সপ্তাহে মাত্র দুইবার আসা যাবে। এর বেশি আসা যাবে না।

আমিনুর রহমান বলেন, ‘আমি এই সপ্তাহে ব্যবসায়িক কাজে ইতোমধ্যে দুইবারের বেশি  ভারতে গিয়েছি। তাই আমি আজ ভারতে প্রবেশ করতে পারবো না।হঠাৎ করেই এমন শর্তের কারণে আমি ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়েছি।’

বেনাপোল গ্রীনলাইন পরিবহনের গাইড রফিকুল ইসলাম তুহিন জানান, শুক্রবার সকালে ট্যুরিস্ট ভিসায় ভারত গেলে একই কারণ দেখিয়ে তাকেও বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।

যশোরের শার্শার কুলপালা গ্রামের শহিদুল ইসলাম (বিপি-০২৭৬১৮৩) গত মাসের ২ অক্টোবর বিকালে ভারতে গেলে পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা তার পাসপোর্টে এন্ট্রি রিফিউজ সিল মেরে বলে দেয় এক মাস পরে আসতে। সে অনুযায়ী শহিদুল ২ নভেম্বর বৃহস্পতিবার ভারতে গেলে পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ তার পাসপোর্টে আবারও রিফিউজ সিল মেরে  বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়।  কী কারণে তাকে ফেরত যেতে বলা হচ্ছে শহিদুল জানতে চাইলে কর্মকর্তা বলেন, ‘কোনও প্রশ্ন শুনতে চাই না।’ 

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ওসি ওমর শরীফ বলেন,  ‘এ রকম লিখিত অভিযোগ কেউ করেনি। ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন এটা করছে শুনেছি। তবে কী জন্য করছে তা বলতে পারবো না। এ ব্যাপারে দুই দেশের হাইকমিশনার পর্যায়ে সমাধান করা উচিত। তবুও আমি আমার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জানাবো।’