মাবিয়া বেগম বলেন, ‘তিন মেয়ে নিয়ে কালুখালীতে ২৫ বছর যাবৎ বসবাস করছি। স্বপন চন্দ্র বিশ্বাস ও তার লোকজন আমার বসতঘর ভেঙে বাড়ির পাশের খালের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। আর বিভিন্ন মালামাল নিয়ে গেছে।’
মাবিয়ার ভাই চুন্নু খানের স্ত্রী আছিয়া বেগমের অভিযোগ, ৯০ শতক জমি নিয়ে প্রায় সাত বছর যাবৎ কালুখালীর অমর বিশ্বাস ওরফে মরা বিশ্বাসসহ তার দুই ভাইয়ের সঙ্গে মামলা রয়েছে। আদালতের রায়ে ২০১৭ সালের ৩ অক্টোবর মাবিয়া বেগম ও চুন্নু খান জমির মালিকানা বুঝে পান। প্রায় দুই মাস আগে ওই জমিতে তিনটি টিনের ঘর তুলে বসবাস করে আসছিলেন তারা। অমর বিশ্বাসের পক্ষে স্বপন চন্দ্র (৫০) ও তার ভাই মিলনসহ তাদের লোকজন গত রবিবার দুপুরে হঠাৎ করে বাড়িঘর ভেঙে খালের মধ্যে ফেলে দেয়। এ সময় মাবিয়াদের বাড়ির পুরুষরা ক্ষেতে কাজ করছিলেন। বাড়িঘর ভেঙে ফেলার সময় তাদের (নারীদের) মারধর করা হয়েছেও বলে অভিযোগ করেন আছিয়া বেগম।
চুন্নু খানের ছেলে ইমামুল বলেন, ‘গত রবিবার সকালে স্বপন চন্দ্র আমাদের বাড়িতে এসে প্রথমে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অপারগতা জানালে আমাদের বাড়িঘর ভেঙে ফেলে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আদালতের মাধ্যমে আমরা ৯০ শতক জমি বুঝে পাওয়ায় অমর বিশ্বাস ও স্বপন চন্দ্র ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের তিনটি বসতঘর, একটি রান্নাঘর ও একটি গোয়ালঘর ভেঙে ফেলেছে। এখন আমরা ছাপড়া ঘরে কষ্টে জীবনযাপন করছি। গোয়ালঘরও ভেঙে ফেলায় পাঁচটি গরু নিয়ে বিপাকে আছি।’
অভিযোগ প্রসঙ্গে মেম্বার স্বপন চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘স্থানীয় নের্তৃত্বে থাকলে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আসতে পারে। তবে আমি নিজ থেকে কিছু করিনি। ঘর ভাঙার সময় কালিয়া এলাকায় ছিলাম।’ তিনি বলেন, ‘জমির ব্যাপারে আপিল করা হয়েছে।’
কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ শমসের আলী জানান, অভিযোগ পেলে মামলা এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।