বাগেরহাটের শরণখোলায় বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে নির্মাণাধীন উপকূলীয় বাঁধ রক্ষা প্রকল্পের ৩৫/১ পোল্ডারের বগী অংশের ব্যাপক এলাকা ধসে গেছে। ওই পয়েন্টে প্রায় ৩শ’ মিটার এলাকা বলেশ্বর নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। আরও পাঁচশ’ মিটার এলাকা জুড়ে ফাঁটল দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে ওই ইউনিয়নের চার গ্রামের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। কোস্টাল হেন্নান ওয়াটার ইম্প্রুভমেন্ট (সিএইচডব্লিউই) নামের একটি চায়না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ বাঁধের নির্মাণের কাজ করছে।
স্থানীয়রা জানান, বগী বন্দর থেকে আশার আলো মসজিদ পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার বাঁধের অন্তত ১০টি পয়েন্টে বড় বড় ফাঁটল দেখা দিয়েছিল। এখন বাঁধের বড় বড় খণ্ড ধসে পড়ছে। এরইমধ্যে প্রায় ৩শ’ মিটার বাঁধ নদীতে ধসে গেছে। ওই পয়েন্ট সম্পূর্ণ বিলিন হতে সামান্য বাকি আছে। আরও ৫০০মিটার এলাকা জুড়ে ভয়াবহ ফাঁটল দেখা দিয়েছে। বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই এসব ঝুঁকিপূর্ণ অংশ নদীতে বিলিন হয়ে যাবে। বাঁধ সম্পূর্ণ বিলিন হলে সাউথখালী ইউনিয়নের ৪টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে কাজ চলমান থাকার মধ্যে বাঁধের এমন ভবয়াবহ ভাঙনে এলাকাবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।
বাঁধ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা রুস্তম আলী (৬০), শাহাজাহান হাওলাদার (৫৫), তাছেন উদ্দিন হাওলাদা (৭৫), আবু তালেব (৪৫) ও ইব্রাহিম হাওলাদার (৪৮) বলেন, ‘ বাঁধের বিশাল অংশ দেবে গেছে। এ কারণে বাঁধের কাছাকাছি এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। বাঁধের ভেতরের অংশে বিশাল ফাঁটল ধরেছে। ধারণ করা হচ্ছে অল্প সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ বাঁধ বিলিন হয়ে যাবে। এর ফলে বগী, চালিতাবুনিয়া, খুড়িয়াখালী, দক্ষিণ সাউথখালীসহ ৪টি গ্রামের কয়েক হাজার ঘরবাড়ি, মাছের ঘের ও পুকুরসহ কয়েকশ’ একর ইরি ধানের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তারা আরও বলেন, ‘টেকসই বেড়িবাঁধের কাজ শুরু হওয়ায় এ এলাকার মানুষ একটু স্বস্তি ফিরে পেয়েছিল। কিন্তু ধীর গতিতে ও অত্যান্ত নিম্নমানের কাজ হচ্ছে। একদিক নির্মাণ করা হচ্ছে, আরেক দিক ধসে পড়ছে। বাঁধ টেকসই করতে হলে আগে ব্লক ডাম্পিং করে নদী শাসন করতে হবে। তা না হলে সরকারের কোটি কোটি টাকা নদী জলে ভেসে যাবে।’
নির্মাণ কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা উপকূলীয় বাঁধ রক্ষা প্রকল্পের (সিইআইপি) সুপারভেশন ইঞ্জিনিয়ার শ্যামল দত্ত জানান, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পরিদর্শন করা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত রিং বাঁধ দেওয়া জন্য বলা হয়েছে। নদী শাসনের জন্য বিশ্ব ব্যাংকের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: অস্ত্র আমার চেয়ে লম্বা হওয়ায় যুদ্ধ করতে পারিনি: প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর