খুলনা মহানগরীতে আবারও দিনের বেলা বাস ট্রাক চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, শহরের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখাসহ যানজট হ্রাস করার জন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
খুলনা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রবিবার খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপত্বিত করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিন উল আহসান। সভায় খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভাপতি জেলা প্রশাসক আমিন উল আহসান বলেন, ‘বর্তমানে সড়ক দুর্ঘটনা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্টদের মহানগরীতে চলাচলকারী থ্রি হুইলার গাড়ির চালকদের লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রশনসহ অন্যান্য কাগজপত্র কঠোরভাবে পরীক্ষা ও যাচাই-বাছাই করতে হবে। একই সঙ্গে থ্রি হুইলারে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহনকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যানবাহনে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা যাবে না।’ এসময় তিনি দিনের বেলায় শহরের মধ্যে বাস ও ট্রাক চলাচল নিসিদ্ধ করে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
সভাপতি আরও জানান, মাদক সেবনের বিষয়ে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। অনেকে ইয়াবা ও গাজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েছে। মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনতে তাদের তালিকা তৈরি করে আইনের কঠোর প্রয়োগ করতে হবে। মাদকবিরোধী প্রচার-প্রচারণা আরও জোরদার করতে হবে। এ ব্যাপারে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা অব্যাহত রাখতে বলা হয়েছে। সভাপতি আসন্ন রোজায় রাস্তাঘাট পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা রাখতে সিটি কর্পোরেশনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান। সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশনারের নির্দেশ অনুযায়ী তিনি নগরীতে ব্যানার ও ফেস্টুন অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ করে এ ব্যাপারে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
পুলিশ সুপার নিজামুল হক মোল্লা জানান, আইন শৃঙ্খলা রক্ষার্থে পুলিশ বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মোটরসাইকেলে তিন জন আরোহী নিয়ে চলাচল করতে পারবে না। প্রতিদিন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।
মাদক সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘মাদকের বিষয়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবস্থান জিরো টরারেন্স।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন এএসএম আব্দুর রাজ্জাক, পুলিশ সুপার নিজামুল হক মোল্লা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, মুক্তিযোদ্ধা, কেএমপি, বিজিবি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ কমিটির সদস্যরা।