সূত্র মতে, আগামী ১৫ মে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন। দিন যতই ঘনিয়ে আসছে সেখানে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণার গতিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে মেয়র পদে ক্ষমতাশীন আওয়ামী লীগ ও বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপির দুইজন শক্তিশালী প্রার্থী থাকায় এই দুই দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। সেই সঙ্গে বাগেরহাটের আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা রুটিন মাফিক সেখানে গিয়ে নির্বাচনি গণসংযোগ ও ভোট প্রার্থনা করছেন।
ভৌগলিক অবস্থানগত কারণে বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট, মোল্লাহাট, রামপাল, মোংলা ও সদর উপজেলার কিছু অংশ থেকে বাগেরহাট জেলা সদরে আসা-যাওয়া করা থেকে খুলনা শহরে যাওয়া- আসা অনেক সহজ। ফলে এসব অঞ্চলের মানুষ জেলা সদর বাগেরহাটের চেয়ে খুলনার ওপর বেশি নির্ভরশীল। তাছাড়া বাগেরহাটের সবকটি উপজেলার অনেক লোক নানা কারণে খুলনা শহরে বসবাস করে। এদিক দিয়ে খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন বাগেরহাটবাসীর জন্য অনেক গুরুত্ব বহন করে।
এর আগে খুলনা সিটি করপোরেশনে মেয়র হিসেবে যারা দায়িত্বপালন করেছেন তাদের মধ্যে তিন জনের বাড়িই বাগেরহাট জেলায়। তারা হলেন- কচুয়া উপজেলার ধোপাখালী এলাকার কাজী আমিনুর রহমান (জাতীয় পার্টি থেকে), বাগেরহাট সদর উপজেলার কররী গ্রামের অ্যাড. শেখ তৈয়েবুর রহমান (বিএনপি থেকে) ও তালুকদার আব্দুল খালেক ( আওয়ামী লীগ থেকে)। এরমধ্যে কাজী আমিনুর রহমান বর্তমান আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, দুইবার দায়িত্বপালনকারী মেয়র বিএনপি নেতা অ্যাড. শেখ তৈয়েবুর রহমান কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। আর তালুদার আব্দুল খালেক আবারও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
তাছাড়া খুলনা সিটি নির্বাচনে বর্তমান আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেকের বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায়। তিনি বাগেরহাট -৩ আসন (রামপাল-মোংলা) থেকে একাধিকবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য। এবারও তিনি এই আসনের সংসদ সদস্য থেকে পদত্যাগ করেই কেসিসি নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সে হিসেবে তার জয়-পরাজয়ের ওপর নির্ভর করছে এই আসনের পরবর্তী সংসদ নির্বাচনের হিসাব-নিকাশ।
এসব কারণে বাগেরহাটবাসীর জন্য খুলনা সিটি নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। ইতোমধ্যে প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল কর্মীসভার মাধ্যমে তাদের দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। গত ২২ এপ্রিল বাগেরহাট পৌরসভা অডিটরিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগের এক কর্মীসভায় দলীয় নেতাকর্মীদের খুলনা সিটি নির্বাচনে নৌকার পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানান অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুসপুত্র শেখ হেলাল উদ্দিন। তিনি নৌকার বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। এই অনুষ্ঠানে কেসিসি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেকও উপস্থিত থেকে নৌকার পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
অপরদিকে গত ২৯ এপ্রিল খুলনার একটি অভিজাত হোটেলে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বাগেরহাট জেলা বিএনপির কেসিসি নির্বাচন নিয়ে একটি মতবিনিময় ও কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভা থেকে বাগেরহাট বিএনপির সব নেতাকর্মীদের কেসিসি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। মতবিনিময় সভায় জেলা বিএনপির সভাপতি , সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাগেরহাট জেলা বিএনপির একজন সহসম্পাদক জানান।
এ বিষয়ে প্রচারণায় অংশ নেওয়া বাগেরহাট জেলা তাঁতী লীগের সভাপতি ও মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেকের ভ্রাতুসপুত্র, বাগেরহাট পৌরসভার প্যানেল মেয়র আলহাজ আব্দুল বাকী তালুকদার বলেন, ‘দলীয় প্রতীক নিয়ে চাচা ( তালুকদার আব্দুল খালেক) নির্বাচন করছেন। তার বিজয়ের জন্য আত্মীয়স্বজনসহ সাধারণ ভোটারদের কাছে যাচ্ছি। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ভোটারদের মাঝে তুলে ধরছি। সাধারণ ভোটারদেরও মধ্যে নৌকায় ভোট দেওয়ার অনেক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। নির্বাচনে বিপুল ভোটে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিজয়ী হবে বলে আশা করছি।’
মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, বাগেরহাট-৪ আসন ( মোড়েলগঞ্জ- শরণখোলা) থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাসী তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা মো. জামিল হোসাইন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুসপুত্র, বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিনের নির্দেশে খুলনায় নৌকার পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। খুলনা সিটিতে শুধু মোড়েলগঞ্জের ভোট আছে ২৭ হাজারের বেশি। নৌকায় ভোট দেওয়ার জন্য তাদের বিশেষভাবে অনুরোধ করছি। ইতোমধ্যে খুলনায় নৌকার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।’
বাগেরহাট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও বাগেরহাট-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাসী ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ রানা বলেন, ‘খুলনা সিটি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য নির্দেশনা রয়েছে। তাই গত ২৬ এপ্রিল থেকে খুলনায় অবস্থান করে ধানের শীষের পক্ষে সাধারণ ভোটারদের কাছে যাচ্ছি। এখনও সাধারণ ভোটারদের মাঝে এক ধরনের ভীতি কাজ করছে। নিরপেক্ষ ভোট হলে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জয় লাভ করবে।’
এ বিষয়ে বাগেরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম বলেন, ‘জরুরি সভায় বাগেরহাটের ৯টি উপজেলা ও ৩টি পৌরসভার নেতাকর্মীদের খুলনা সিটি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে বিএনপি কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে কয়েকদিন আগে খুলনা থেকে বাগেরহাট জেলা যুবদলের সভাপতি মেহেবুবুল হক কিশোরকে পুলিশ আটক করে কারাগারে পাঠিয়েছে। এসব করে সরকার নির্বাচনি পরিবেশ নষ্টের চেষ্টা চালাচ্ছে।’