উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌকিদার-দফাদার সমিতির উপজেলা সভাপতি রেজাউল ইসলামকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ছাড়াও তাকে লাঠিপেটা করতে উদ্যত হন বলে অভিযোগ করেছেন সমিতির সভাপতি রেজাউল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক হাসানুজ্জামান।
উপজেলা গ্রাম পুলিশ সমিতির সভাপতি ও ফুলসারা ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আমাদের থানা হাজিরা (প্যারেডের) বিলে স্বাক্ষর করার অনুরোধ করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে যাই। তখন ইউএনও বলেন—বিষয়টি তো তোমাদের বুঝিয়ে বলেছি। এর পরপরই তিনি আমাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। তার কর্মচারীদের বলেন— এই আমার গাড়ি থেকে লাঠিটি নিয়ে আসো তো! ওকে লাঠিপেটা করে বের করে দেই। এসময় ইউএনও অফিসে হাকিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসান ছিলেন। তিনি আমাদের বাইরে বেরিয়ে যেতে বলেন। আমরা বাইরে চলে আসি।’
সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও স্বরূপদাহ ইউপির দফাদার হাসানুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের থানা হাজিরার ১১ মাসের ভাতা বকেয়া রয়েছে। সেখানে এক একজনের প্রতি মাসে প্রায় ১ হাজার ২০০টাকা করে ১১ মাসের ভাতার টাকা বাকি রয়েছে। সেই টাকা চাইতে গেলে ইউএনও আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন।’
বিক্ষোভের সময় চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান উপজেলা পরিষদে ছিলেন না। তারা ঘটনা শুনে বিকাল ৩টায় পরিষদে আসেন। পরে উপজেলার সব চৌকিদার-দফাদাররা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সরকারি বাসভবনে ভাইস চেয়ারম্যান দেবাশীষ মিশ্র জয় ও তার সঙ্গে সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে তারা তাদের সঙ্গে ইউএনও’র অসদাচরণের বিষয়ে অভিযোগ করেন। তখন উপজেলা চেয়ারম্যান ইউএনও’র সঙ্গে কথা বলে চৌকিদার-দফাদারদের শান্ত করেন।’
ঘটনাস্থলে উপস্থিত হাকিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসান বলেন, ‘ইউএনও তাদের ওপর রাগারাগি করেছেন। তিনি বলেছেন— যে ফান্ড আছে তা দিয়ে বেতন-ভাতাই পরিশোধ করা যাচ্ছে না। থানা প্যারেডের হাজিরা দেবো কীভাবে?’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইবাদত হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তারা ভাতার টাকা চায়। এজন্য প্রতিদিন তারা অফিসে আসে। তাদের বুঝিয়ে বলার পরও জোট বেঁধে অফিসে আসে।’ তবে দফাদারদেরকে গালিগালাজ করার অভিযোগের বিষয়ে ইউএনও কোনও মন্তব্য করেননি।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এসএম হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ফান্ডে টাকা না থাকায় তাদের বকেয়া ভাতা দেওয়া যাচ্ছে না বলে ইউএনও আমাকে জানিয়েছেন। যে টাকা রয়েছে, তা ইউপি সচিবদের জন্য জেলা পরিষদে দিতে হবে।’ তবে, যা আছে সেখান থেকে ঈদের আগে যথাসম্ভব বকেয়া টাকা চৌকিদার-দফাদারদের দেওয়া হবে বলে জানান উপজেলা চেয়ারম্যান।
ইউএনওর বিরুদ্ধে খারাপ ব্যবহারের অভিযোগ বিষয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাবিব বলেন, ‘ইউএনও যদি এটা করে থাকেন, তাহলে সেটা তিনি ঠিক করেননি। একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা এমনটি করতে পারেন না। বিষয়টি তাদেরকে বুঝিয়ে বলা যেত।’
প্রসঙ্গত চৌকিদার-দফাদাররা (গ্রাম পুলিশ) উপজেলা পরিষদের ভূমি আয়ের ১% থেকে তাদের বেতন-ভাতার একটি অংশ পেয়ে থাকেন। প্রতি সপ্তাহে থানায় তাদের হাজিরা দিয়ে প্যারেডে অংশ নিতে হয়। এরজন্য জনপ্রতি ৩০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হয় একই উৎস থেকে।