ফেসবুকে ছাত্রলীগকে কটূক্তি: ইবি ছাত্রীর বিরুদ্ধে মামলা, সাময়িক বহিষ্কার

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নামে কটূক্তি করায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত ছাত্রীর নাম মৌসুমি মৌ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী। বহিষ্কার ছাড়াও ওই ছাত্রীর বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ মামলা করেছে। এছাড়াও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এসএম আব্দুল লতিফ সাময়িক বহিষ্কার ও তদন্ত কমিটির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রেজিস্ট্রার অফিস থেকে ও ছাত্রলীগের দায়ের করা মামলা সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে ওই শিক্ষার্থী তার ফেসবুক আইডিতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সম্পর্কে অশ্লীল ভাষায় কটূক্তিপূর্ণ স্ট্যাটাস দেয়। স্ট্যাটাসটি ছাত্রলীগ কর্মীদের মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। এ নিয়ে বিভিন্নজন তার বিরুদ্ধে নানা মন্তব্য করে। সোমবার সকালে সে তার আইডি থেকে ওই স্ট্যাটাসটি মুছে দেয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে বিভাগে ও থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়।

একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর ওই ছাত্রীর বহিষ্কারাদেশ দাবি করে লিখিত অভিযোগ করা হয়। পরে বিষয়টি আমলে নিয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান (ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য) তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করেন।

এদিকে বিষয়টি অনুসন্ধানের জন্য ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রেজওয়ানুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আহসান-উল-আাম্বিয়া ও সহকারী প্রক্টর এস এম আব্দুর রহিম। কমিটির সদস্যদের আগামী সাত কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে তাকে কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না তার কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার (০৬ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহিনুর রহমান শাহিন বাদী হয়ে ইবি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এ বিষয়ে তিনি বলেন,‘এটি শুধু এই ক্যাম্পাসের ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে স্ট্যাটাস নয়, বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’র বিরুদ্ধে কটূক্তি। আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

মামলার কথা স্বীকার করে ইবি থানার ওসি রতন শেখ বলেন, ‘আইসিটি আইনে একটি মামলা হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে তদন্ত করছি।’

ওই ছাত্রীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।